কাশ্মিরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে দিল্লিতে শত শত মানুষের বিক্ষোভ

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে দেশটিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে শত শত মানুষ দিল্লিতে ওই বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় তারা কাশ্মিরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলটিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার সাত বছর পর পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শত শত মানুষ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি পালনে বাধা দিয়েছে। পোস্টে বিক্ষোভকারীদের হাতে পোস্টার ও স্লোগান দেওয়ার ছবি এবং ভিডিও যুক্ত করে দিয়েছেন তিনি।

কাশ্মিরের এই মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‌‌‘‘আমাদের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা, আমাদের অধিকার, আমাদের মর্যাদা এবং আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া সব কিছু ফিরে পাওয়ার লড়াই কেবল শুরু।’’

২০১৯ সালের আগস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার জম্মু ও কাশ্মির রাজ্যের আংশিক স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে। একই সঙ্গে রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহার করে অঞ্চলটিকে কেন্দ্রশাসিত দুটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। একটি অংশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মির ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মু এবং অন্যটি বৌদ্ধ অধ্যুষিত লাদাখ।

এরপর থেকে দেশটির সরকার বলে আসছে, ‘যথাযথ সময়ে’ হিমালয় লাগোয়া ওই অঞ্চলের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে এর জন্য কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করেনি মোদি সরকার।

ওমর আবদুল্লাহ ও তার দল জম্মু অ্যান্ড কাশ্মির ন্যাশনাল কনফারেন্স বলেছে, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা উচিত।

মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতারা বলেছেন, আবদুল্লাহ সরকারের তথাকথিত প্রশাসনিক ব্যর্থতা থেকে নজর অন্যদিকে ঘোরাতেই এই বিক্ষোভের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মিরকে পুরোপুরি নিজেদের বলে দাবি করে। তবে উভয় দেশ এই কাশ্মিরের বিভক্ত দুই অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ভারত অধিকৃত কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে আসছে দিল্লি। তবে ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ