‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’র মুকুটহীন নবাব

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সাদাকালো যুগ। প্রখ্যাত পরিচালক খান আতাউর রহমান নির্মাণ করলেন ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’। নাম ভূমিকায় অভিনয় করলেন আনোয়ার হোসেন। এই সিনেমায় তার অভিনয় দর্শকদের স্মৃতিতে জায়গা করে নেয়।

পর্দায় যখন সিরাজের মৃত্যু দৃশ্য দেখানো হয়, প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের চোখ ভিজে উঠেছিল। ওই সিনেমা আনোয়ার হোসেনকে ‘মুকুটহীন নবাব’-এর খেতাব এনে দেয়। এরপর যেখানেই যেতেন, মানুষ তাকে এই নামেই ডাকত।

আজ ১৩ সেপ্টেম্বর,  অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের প্রয়াণ দিবস। ২০১৩ সালের এই দিনে তিনি না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

খলনায়কের চরিত্র দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় আনোয়ার হোসেনের। ‘সূর্যস্নান’ সিনেমায় তিনি প্রথম নায়ক হিসেবে পর্দায় আসেন। জীবদ্দশায় পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। কখনো নায়ক, কখনো রাজা, কখনোবা সাধারণ মানুষের চরিত্রে অভিনয় করে কোটি মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন।

জহির রায়হানের সিনেমা ‘জীবন থেকে নেয়া’ প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম দেখে আসছে। এই সিনেমায় আনোয়ার হোসেন রাজনীতিবিদের চরিত্রে অভিনয় করে ভিন্ন ইমেজ গড়ে তোলেন। সিনেমায় ‘কারার ওই লৌহ কপাট’-এ তিনিসহ কয়েকজন ঠোঁট মেলান। ‘আমার সোনার বাংলা’ গানে তার চোখে জল দেখা যায়।

আনোয়ার হোসেনের ক্যারিয়ারের আরেকটি কালজয়ী সিনেমা ‘লাঠিয়াল’। এই সিনেমায় অভিনয় করে তিনি গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নেন। এই সিনেমার জন্যই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ সিনেমায় সাধারণ এক মানুষের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আরও একবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এই সিনেমায় তার লিপে ‘আছেন আমার মোক্তার, আছেন আমার ব্যারিস্টার’ গানটি সে সময় মানুষের মুখে মুখে ঘুরত।

এ ছাড়া ‘শহীদ তিতুমীর’ ও ‘ঈশা খাঁ’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। ‘বড় ভালো লোক ছিল’ সিনেমায় তার অভিনীত চরিত্রের লিপে ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস দম ফুরাইলে ঠুস’ গানটি আজও সব বয়সী মানুষের কাছে জনপ্রিয়। ‘মানুষের মন’, ‘ভানু মতি’, ‘চাকরাণী’, ‘ভাত দে’, ‘দয়াল মুর্শিদ’-এর মতো অসংখ্য চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের কাঁদিয়েছে-হাসিয়েছে-ভাবিয়েছে। অভিনয়জীবনে তিনি একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন। চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ