ভারতের বাধার কারণে ব্রিকসের দুয়ারে আটকে পাকিস্তান

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

উদীয়মান আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনৈতিক জোট ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য ৩ বছর আগেআবেদন করেছে পাকিস্তান, জোটের দুই প্রভাবশালী সদস্য চীন ও রাশিয়া ইসলামাবাদকে সবুজ সংকেতও দিয়েছে; কিন্তু শুধমাত্র ভারতের আপত্তির কারণে এ জোটের সদস্য হতে পারছে না পাকিস্তান।

ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য ৩০টি দেশ আবেদন করেছে। এই ত্রিশ দেশের সারিতে পাকিস্তানও রয়েছে।

তীব্র অর্থনৈতিক চাপে থাকা পাকিস্তান মূলত ব্রিকস জোটের সদস্যপদ চাইছে নিজেদের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে। পাকিস্তানের জাতীয় অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুসারে, বর্তমানে দেশিটির বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৭০ ভাগ।

জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার তথ্য অনুসারে ব্রিকসের সদস্যপদ না নিলেও ব্রিকস সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের (এনডিবি) ৫৮ কোটি ডলার সমমূল্যের শেয়ার কিনেছে পাকিস্তান।

ব্রিকসের সুবাদে যেভাবে লাভবান হচ্ছে ভারত

এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ব্রিকস জোটের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের নিজস্ব বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জোটভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের রপ্তানি ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৬৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৯৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান বৈশ্বিক দক্ষিণের এ প্রধান জোটে যোগ দিতে চায়। তিনি বলেছিলেন, ব্রিকসের ‘বেশিরভাগ’ সদস্যের সঙ্গে পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছে জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ব্রিকসে যোগ দিয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয়তাকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।”

তিনি বলেন, “আমরা এও আশা করি যে অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয়তার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার অনুযায়ী ব্রিকস পাকিস্তানের আবেদনের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।”

রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি রুশ সংবাদ সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পাকিস্তানকে সদস্যপদ পেতে সমর্থন দেওয়ার জন্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়ায় রয়েছে দেশটি। বিশেষ করে রাশিয়ার কাছে সমর্থন চাওয়া হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো ও বেইজিংয়ের সমর্থন থাকার পরও ব্রিকসে পাকিস্তানের যোগদান এখনও আটকে আছে। কারণ জোটের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়মে ভারতের বিরোধিতাই ‘দুর্ভেদ্য বাধা’ হিসেবে কাজ করছে।

ব্রিকসের নিয়ম অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ সদস্য বা অংশীদার দেশ হিসেবে নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে বর্তমান সব সদস্য দেশের সর্বসম্মত অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ