কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়নে অ্যানথ্রপিক ও এর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে দায়িত্বশীল আচরণ করছে না- এমন উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন এক গবেষক। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে শিল্পের ভেতরে-বাইরে যে উদ্বেগ রয়েছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে তার বক্তব্যে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
জ্যাকব কক্সন নামের ওই গবেষক জানান, তিনি অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই- দুই প্রতিষ্ঠানেই তিন বছর গবেষণা করেছেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দুই এআই প্রতিষ্ঠানই নিরাপত্তার চেয়ে সবচেয়ে উন্নত মডেল তৈরিতে একে অপর ও বিশ্বের প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারানোর দিকে বেশি মনোযোগী।
অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই প্রায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঘোষণা দেয়, তাদের মডেলগুলো পরীক্ষামূলক পরিবেশ থেকে বেরিয়ে বাস্তব কম্পিউটার সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার পেয়েছিল। এ ঘটনায় মডেলগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে আরও ক্ষতিকর কাজ করতে পারে এমন উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে দুই প্রতিষ্ঠানই জানায়, আরও নজরদারি ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ চালু করার সময় তারা কিছু মূল্যায়ন স্থগিত রাখছে।
এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন নেতাও আরও সতর্ক পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক চলতি সপ্তাহে দেশগুলোকে ‘অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগে’ এআইয়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় ‘লোহার মতো শক্ত নিশ্চয়তা’ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
কক্সন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে বলেন, অ্যানথ্রপিক ও তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআই সরাসরি স্ব-উন্নয়নশীল সুপারইন্টেলিজেন্সের দিকে ছুটছে এবং আমাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এআই উন্নয়নে কাজ করা কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন, এই প্রযুক্তি দশকের শেষ নাগাদ মানবজীবনের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
কক্সন আরও বলেন, এই প্রযুক্তির ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করবেন না। এগুলো শিগগিরই এমন অতিমানবীয় ব্যবস্থা হয়ে উঠবে, যা যেকোনও কিছু হ্যাক করতে পারবে, রাতারাতি যেকোনও ক্ষেত্র বদলে দিতে পারবে এবং বাস্তব ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জন করতে পারবে। আমরা এসব ক্ষেত্রের প্রতিটিতে অগ্রগতি দেখেছি, আর সেই অগ্রগতি ধীর হচ্ছে না।
তার পোস্টগুলো এক রাতের মধ্যে ১০ কোটির বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়।
কক্সনই প্রথম এআই-শিল্পের অভ্যন্তরীণ ব্যক্তি নন, যিনি প্রকাশ্যে এমন উদ্বেগ জানিয়েছেন। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই- উভয় প্রতিষ্ঠান থেকেই বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পদত্যাগ করেছেন। অ্যানথ্রপিকের বর্তমান দুই কর্মীও কক্সনের পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তার সঙ্গে একমত হয়েছেন।
এআইয়ের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের পক্ষে কথা বলা ভারমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও কক্সনের উদ্বেগের সঙ্গে একমত হয়েছেন। তিনি জানান, এআই উন্নয়ন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এবং সুপারইন্টেলিজেন্স নিষিদ্ধ করার জন্য শিগগিরই আইন প্রস্তাব করবেন।
২০২১ সালে অ্যানথ্রপিকের প্রতিষ্ঠাতারা ওপেনএআই ছেড়ে নতুন প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার পর থেকেই অ্যানথ্রপিক নিজেদের শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি দায়িত্বশীল ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক হিসেবে তুলে ধরেছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গতি ও নিরাপত্তার মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে তারা ‘গতির চেয়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার’ দিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।