কেন তারেক রহমানকে দিল্লিতে চাইছে ভারত

শফিকুল আলম সেলিম
প্রকাশের সময় শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

হাসিনা, চীন-পাকিস্তান, সীমান্ত-পানি ও বাণিজ্যের সমীকরণে নতুন হিসাব

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিতে ভারতের আগ্রহ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভারত তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। পরে সেপ্টেম্বরের BRICS সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। আগস্টে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও দুই আমন্ত্রণের কথা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছে।

কিন্তু ঢাকার পক্ষ থেকে এখনো সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে দিল্লির আমন্ত্রণ যেমন স্পষ্ট, তেমনি সফর নিয়ে ঢাকার হিসাবও স্পষ্টতই আলাদা।

এখানেই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ—ভারত কেন তারেক রহমানের সঙ্গে এত দ্রুত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ চাইছে?

এর উত্তর শুধু সৌজন্য কূটনীতিতে নেই। বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন, চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব, পাকিস্তানের সঙ্গে ঢাকার নতুন যোগাযোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা, পানি ও বাণিজ্য—সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার একটি বড় ভূরাজনৈতিক সমীকরণ।

শেখ হাসিনা সরকারের সময় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ছিল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ঘনিষ্ঠ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক। সীমান্ত, নিরাপত্তা, যোগাযোগ, বন্দর ব্যবহার, বিদ্যুৎ, রেল ও সড়ক যোগাযোগসহ নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বেড়েছিল।

কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই সম্পর্কের কাঠামো বদলে গেছে। শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কে বড় অমীমাংসিত ইস্যু হয়ে আছে।

এর মধ্যে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে। ফলে দিল্লির সামনে বাস্তবতা হলো—আগের রাজনৈতিক সমীকরণ আর ধরে রাখার সুযোগ নেই। নতুন সরকারের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক তৈরি করতেই হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আগস্টে জানিয়েছেন, তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণের পাশাপাশি BRICS আউটরিচেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কূটনীতির ভাষায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। দিল্লি চাইছে, নতুন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগটি যেন শুরুতেই উচ্চপর্যায়ে হয়।

ভারতের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক হিসাব হতে পারে—নতুন বাংলাদেশকে বুঝে নেওয়া এবং নতুন সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক আস্থা তৈরি করা।

শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে ভারতের যে ঘনিষ্ঠতা ছিল, তার বড় অংশই ছিল ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আস্থাভিত্তিক। সেই সম্পর্ক এখন আর আগের অবস্থায় নেই।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক কেমন হবে, সেটি এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত নয়।

তাই শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে যোগাযোগ স্থাপন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্রীয় সফর হলে শুধু প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নয়—পররাষ্ট্র, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক পর্যায়েও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়।

দিল্লির জন্য এটি একই সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং নতুন সরকার সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার সুযোগ।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে চীনের ভূমিকা ভারতের জন্য দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়।

চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের একটি। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও চীনের উপস্থিতি রয়েছে।

তারেক রহমান সরকারের সময়ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সক্রিয় হয়েছে। এর ফলে ভারতের সামনে প্রশ্ন উঠছে—নতুন সরকার কি ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে চীনের ভূমিকা আরও বাড়াবে?

বাংলাদেশ ভারতের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাছাকাছি বাংলাদেশের অবস্থান। ফলে ঢাকার সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা যদি কৌশলগত ক্ষেত্রেও বাড়ে, তা ভারতের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের লক্ষ্য তাই সম্ভবত বাংলাদেশকে চীনের কাছ থেকে দূরে রাখা নয়—বরং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারতের অবস্থান যাতে দুর্বল না হয়, সেটি নিশ্চিত করা।

চীনের পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে ‘মেক্কা প্যাক্ট’-এর প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রস্তাবিত এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামোয় বাংলাদেশ যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে বৈরিতাপূর্ণ। সেই পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বা কৌশলগত সম্পর্ক যদি নতুন মাত্রা পায়, দিল্লি তা স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।

বাংলাদেশ অবশ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো একক ভূরাজনৈতিক বলয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং ঢাকা একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রাখার নীতি অনুসরণ করছে।

কিন্তু ভারতের কাছে প্রশ্ন হলো—এই ভারসাম্য কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

সেখানেই তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্ব।

দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে কঠিন জায়গা সম্ভবত শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকার দাবি দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে দিল্লি বিষয়টি আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় দেখছে।

ফলে তারেক রহমানের দিল্লি সফর হলে শেখ হাসিনা প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যাওয়া কঠিন।

বরং এটিই হতে পারে বৈঠকের সবচেয়ে কঠিন দর-কষাকষির বিষয়।

ঢাকার জন্য এটি শুধু একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে এবং তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ।

অন্যদিকে ভারতের জন্য শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত।

এই জায়গায় দিল্লির কাছে তারেক রহমানের সফর একটি সুযোগও হতে পারে। সরাসরি রাজনৈতিক আলোচনায় বসে দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় অচলাবস্থা কীভাবে কমানো যায়, সেটি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব।

অর্থাৎ সফরটি যতটা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সুযোগ, ততটাই শেখ হাসিনা ইস্যুতে দর-কষাকষির সম্ভাব্য মঞ্চ।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ। এই সীমান্ত ভারতের জন্য শুধু একটি আন্তর্জাতিক সীমারেখা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা, চোরাচালান, মানবপাচার, অবৈধ প্রবেশ, সীমান্ত সংঘাতসহ নানা বিষয়।

সীমান্তে প্রাণহানি ও বিএসএফের ভূমিকা বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বিষয়।

অন্যদিকে ভারতের অভিযোগের জায়গায় থাকে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্তপারের অপরাধ।

এসব সমস্যা মাঠপর্যায়ের বৈঠকে পুরোপুরি সমাধান হয় না। প্রয়োজন রাজনৈতিক সমঝোতা।

তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে দিল্লি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে চাইতে পারে।

গঙ্গা চুক্তি, তিস্তা ও অভিন্ন নদীর পানি—বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে পুরোনো ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি।

বিশেষ করে তিস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও দৃশ্যমান সমাধান আসেনি।

নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সময় পানি ইস্যু এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বরং বাংলাদেশের দিক থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সাফল্য পরিমাপের অন্যতম মানদণ্ড হতে পারে পানি বণ্টনে অগ্রগতি।

দিল্লিও জানে, শুধু নিরাপত্তা বা বাণিজ্যের কথা বলে সম্পর্ককে টেকসই করা কঠিন। বাংলাদেশের জনমত ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় পানির প্রশ্নের গুরুত্ব অনেক বেশি।

ভারত বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য অংশীদার। কিন্তু দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা নিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের জন্য বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার এবং একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাব্য করিডর।

রেল, সড়ক, নৌপথ ও বন্দর ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো তাই দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি কৌশলগত গুরুত্বও বহন করে।

বাংলাদেশ যদি ভারতকে ট্রানজিট ও যোগাযোগে সুবিধা দেয়, তবে ঢাকা বিনিময়ে কী পাবে—এই প্রশ্ন ভবিষ্যৎ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে BRICS সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে BIMSTEC-এর চেয়ারম্যান হওয়ায় আঞ্চলিক জোটের নেতৃত্বের সূত্রেও এই আমন্ত্রণের ভিত্তি রয়েছে।

একদিকে এটি একটি বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান। ফলে তারেক রহমানের সফরকে শুধু ভারত সফর হিসেবে দেখানোর প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে একই সফরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সুযোগ তৈরি করা যায়।

অর্থাৎ BRICS ভারতের জন্য কূটনৈতিক ‘সফট ল্যান্ডিং’ তৈরি করতে পারে।

এটি কেবল সময়সূচির প্রশ্ন বলে মনে হয় না। কারণ তারেক রহমানের সফর হলে এর রাজনৈতিক বার্তা কী হবে, শেখ হাসিনা ইস্যুতে কী অগ্রগতি হবে এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে কী পাওয়া যাবে—এসব হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত এসেছে যে ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়া নেই এবং দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমেই এগোতে হবে। আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত সফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও হয়নি।

দিল্লি যদি মনে করে শুধু আমন্ত্রণ জানালেই ঢাকা আগের সম্পর্কের জায়গায় ফিরে যাবে, তাহলে ভুল হতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে। নতুন সরকার একই সঙ্গে ভারত, চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চাইছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের নীতি এখন সম্ভবত হবে—এক দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নয়, বহু দেশের সঙ্গে স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক।

ভারতকে সেই বাস্তবতা মেনে নিয়েই ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।

সব হিসাব এক জায়গায় আনলে দেখা যায়, তারেক রহমানকে দিল্লিতে নেওয়ার ভারতের আগ্রহের পেছনে একক কোনো কারণ নেই।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, চীনের প্রভাব, পাকিস্তানের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা, পানি, বাণিজ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ এবং বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব।

এর বাইরে আছে একটি বড় রাজনৈতিক বাস্তবতা—হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশে ভারত তার প্রভাবের জায়গাটি নতুন করে নির্ধারণ করতে চাইছে।

সুতরাং দিল্লির আমন্ত্রণকে শুধু সৌজন্য কূটনীতি হিসেবে দেখার সুযোগ কম।

তারেক রহমান দিল্লিতে গেলে ছবির দৃশ্যটি হয়তো খুব সহজ হবে—দুই প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসবেন, করমর্দন করবেন, যৌথ বিবৃতি আসবে।

কিন্তু সেই ছবির পেছনের হিসাব হবে অনেক কঠিন।

হাসিনার প্রত্যর্পণে অগ্রগতি, সীমান্তে প্রাণহানি কমানো, পানি ইস্যুতে অগ্রগতি, বাণিজ্য ভারসাম্য এবং সমমর্যাদার সম্পর্ক।

নিরাপত্তা সহযোগিতা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ও বাণিজ্য সুবিধা এবং বাংলাদেশে চীন-পাকিস্তানের কৌশলগত প্রভাব যেন ভারতের স্বার্থকে ছাপিয়ে না যায়।

এই দুই পক্ষের চাওয়া-পাওয়ার মাঝখানেই নির্ধারিত হবে সম্ভাব্য সফরের আসল ফলাফল।

তারেক রহমান দিল্লি যাবেন কি না।

তার চেয়েও বড় প্রশ্ন—

যদি যান, তাহলে কী নিয়ে ফিরবেন?

কারণ একটি সফরের সাফল্য করমর্দনের ছবিতে নয়; সাফল্য নির্ধারিত হবে আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশ কতটা নিজের স্বার্থ আদায় করতে পারল এবং ভারত কতটা নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারল—তার ওপর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ