রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এদের মধ্যে ৬ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন।
ডিবি বলছে, প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগিয়ে থাকা এসব চীনা নাগরিকরা প্রতারণার জন্য বাংলাদেশকে টার্গেট করে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রলুব্ধ করছে। এরপর প্রতারণার এই অর্থ নগদ বা বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঢুকছে আর তাৎক্ষণিকভাবে এই টাকাটা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।
গতকাল সকালে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমটি নিয়মিত সাইবার মনিটরিং কালে ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপে এবং বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাসের প্রলোভন এবং বিকাশ/নগদ ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত করে।
এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১৩ নং সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাউসার, করিম ও রোকনকে এবং তুরাগ থানাধীন রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট এলাকা থেকে চীনা নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চক্রটি প্রথমে প্রলোভন দেখিয়ে কিছু লাভ দেবে। পরবর্তীতে দেখবেন যে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। আমরা অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখছি এই টাকাটা নগদ বা বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঢুকছে। আর তাৎক্ষণিকভাবে টাকাটা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।
অবৈধ সিমের বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা সিম বিক্রি করে তারা বিভিন্ন সময় কম শিক্ষিত মানুষ সিম কিনতে গেলে তাদের থেকে বার বার ফিঙ্গার প্রিন্ট নেয়। এগুলো ক্রেতা বুঝতেও পারে না। দেখা যায় তাদেরকে বলা হয় ফিঙ্গার হয়নি আবার দেন। এভাবে তারা একাধিক সিম রেজিস্ট্রেশন করে এসব চক্রের কাছে বিক্রি করে। বিভিন্ন সময় এমন চক্রে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবৈধ এসব কাজের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।