চ্যাটজিপিটিতে ব্যবহারকারীর বয়স অনুমান করার নতুন ফিচার চালু করছে ওপেনএআই। এর মাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্ট কিশোরের হতে পারে কি না, তা শনাক্ত করে সংবেদনশীল কনটেন্টের ঝুঁকি কমাতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা চ্যাটজিপিটিতে বয়স শনাক্ত বা ‘এজ প্রেডিকশন’ প্রযুক্তি চালু করছে। এই ফিচার বিশ্বব্যাপী ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। লক্ষ্য হলো— ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা জোরদার করা। ওপেনএআই বলছে, নতুন এই মডেল কোনো অ্যাকাউন্ট কিশোরের হতে পারে বলে অনুমান করলে সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়তি সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু হবে। এতে সংবেদনশীল বা পরিণত বিষয়বস্তুর প্রদর্শন সীমিত করা হবে। সহিংসতা, যৌনতা বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত কনটেন্ট দেখার সুযোগ কমে যাবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে এই ফিচারটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চালু হবে। ইউরোপে শিশু-কিশোরদের অনলাইন সুরক্ষা নিয়ে কড়াকড়ি থাকায় সেখানে এই উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ওপেনএআই।
বর্তমানে চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ৮০ কোটি। এত বড় ব্যবহারকারীভিত্তির কারণে বয়সভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ওপেনএআইয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় অগ্রাধিকার।
একই সঙ্গে আয়ের দিকেও নজর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি ওপেনএআই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যবহারকারীর জন্য চ্যাটজিপিটিতে বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু হবে। রাজস্ব বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত। ওপেনএআইয়ের অর্থবিষয়ক প্রধান সারা ফ্রিয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কোম্পানিটির বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। যা এক বছর আগে ছিল ৬ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, বয়স শনাক্তের এই উদ্যোগ একদিকে কিশোরদের সুরক্ষায় সহায়ক হবে। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট চালুর পথও তৈরি করবে। তবে বয়স অনুমানের নির্ভুলতা এবং ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা— এই দুই বিষয় নিয়ে আলোচনা আরও বাড়তে পারে। বাস্তবে এই ফিচার কতটা কার্যকর হয় তা নির্ভর করবে এর প্রয়োগ ও ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতার ওপর।





