স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক রোগী ভবিষ্যতে কেমোথেরাপি ছাড়াই চিকিৎসা নিতে পারবেন বলে নতুন এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, বিশেষ ধরনের একটি ডিএনএভিত্তিক জিন পরীক্ষা নির্ধারণ করতে সক্ষম যে কোন রোগী কেমোথেরাপি থেকে প্রকৃত উপকার পাবেন এবং কার ক্ষেত্রে এই চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।
গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষকে কেমোথেরাপি না দিয়েও সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে হরমোন থেরাপিই যথেষ্ট কার্যকর ছিল, ফলে কেমোথেরাপির নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া গেছে।
গবেষণায় ‘প্রোসিগনা’ নামের একটি জিন পরীক্ষার ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষাটি স্তন ক্যানসারের বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত ৫০টি জিনের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে এবং ভবিষ্যতে রোগটি পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা কতটা, তা নির্ণয় করে। যেসব রোগীর ঝুঁকির স্কোর কম ছিল, তাদের কেমোথেরাপি দেওয়া হয়নি। এই নিম্ন-ঝুঁকির রোগীরাই গবেষণায় অংশ নেওয়া মোট রোগীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।
বর্তমানে স্তন ক্যানসারের প্রধান চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ। পরবর্তীতে রোগ পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে অনেক ক্ষেত্রেই কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের সেইসব রোগীদের ক্ষেত্রে, যাদের ক্যানসার নিকটবর্তী লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসকদের একটি অংশের মধ্যে ধারণা ছিল যে স্তন ক্যানসারের সবচেয়ে প্রচলিত ধরনে সব রোগীর জন্য কেমোথেরাপি সমানভাবে উপকারী নাও হতে পারে। নতুন গবেষণাটি সেই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে।