আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

লতিফ সিদ্দিকী বললেন, ‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন’

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর কাছে কথা বলার অনুমতি চেয়ে পাননি মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলাটির শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়া থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বলতে চাচ্ছিলাম যে আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন।’

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লতিফ সিদ্দিকীকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ লতিফ সিদ্দিকীকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখান। পাশাপাশি তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ সময় লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘হায়রে হায় হায়। এই যদি হয় আদালত, আমি কোথায় যাই?’

এরপর পুলিশ সদস্যরা তাঁর কাছ থেকে মাইক্রোফোন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে লতিফ সিদ্দিকীর উচ্চবাচ্য হয়।

তারপর লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনাল-২-এর কাঠগড়া থেকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নেওয়ার সময় একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ট্রাইব্যুনালে আপনি কী বলতে চাচ্ছিলেন? এ সময় লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বলতে চাচ্ছিলাম যে আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন।’

লতিফ সিদ্দিকীর মামলার শুনানির সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ছোট ভাই ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

লতিফ সিদ্দিকী যে নিজেকে ফাঁসি দিতে বলেছেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, মানুষ বাঁচে ক দিন? উনার (লতিফ সিদ্দিকী) ৮৭ বছর হয়ে গেছে। তাঁর (কাদের সিদ্দিকী) ৮০ বছর হয়ে গেছে। এখন অপরাধটা লতিফ সিদ্দিকী করেননি, সে জন্য যদি তাঁর ফাঁসি হয়, সেটা তাঁরা সাদরে গ্রহণ করবেন। কারণ, আল্লাহ-তাআলা তাঁকে তখন মুক্তি দেবেন। আল্লাহ নিজেই বলেছেন।

শাপলা চত্বরের ঘটনায় লতিফ সিদ্দিকী একেবারে নির্দোষ বলে দাবি করেন ভাই কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘এটা একেবারে অন্যায়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ তাঁরা আইনি লড়াই করবেন বলে জানান কাদের সিদ্দিকী।

লতিফ সিদ্দিকীর ট্রাইব্যুনালে কথা বলতে চাওয়া সম্পর্কে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রত্যেক অভিযুক্ত কথা বলতে পারেন। গত রাতে লতিফ সিদ্দিকীকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি ডিবির সুন্দর ব্যবহার দেখেছেন। ট্রাইব্যুনালে সেটার বিপরীত, একেবারে অসুন্দর ব্যবহার। সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান দেওয়া উচিত।’

লতিফ সিদ্দিকীর হাতে হাতকড়া বহুবার পড়েছে উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘হ্যান্ডকাফ নিয়ে কোনো ব্যাপার নাই। এটা সরকার বুঝবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ