ময়মনসিংহের যে হাটে বিক্রি হয় মানুষ

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। সকাল ৭টা বাজতেই ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা মহিলা কলেজ মোড়ে একে একে জড়ো হতে থাকেন শতাধিক মানুষ। কারও হাতে কোদাল, কারও হাতে বেলচা, কেউ আবার খালি হাতেই দাঁড়িয়ে আছেন রাস্তার পাশে। তাদের সবার লক্ষ্য একটাই—আজকের দিনের জন্য একটি কাজ জোটানো।

একই চিত্র দেখা যায় ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া মোড়েও। ভোর থেকে সেখানে কাজের আশায় অপেক্ষা করেন অসংখ্য দিনমজুর। কাজ মিললে দিন ভালো কাটে, না মিললে খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয়।

ত্রিশালের আমিরাবাড়ি এলাকার নির্মাণশ্রমিকদের সাথে কথা বলে যানা গেছে, প্রতিদিন সকালে এখানে আসে। ভাগ্য ভালো থাকলে কাজ পায়, না হলে দুপুরের আগেই বাড়ি ফিরতে হয়। এখন সাধারণ শ্রমিকের মজুরি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। তবে সব দিন সমান কাজ থাকে না।

কাজ না পেলে সংসারে সংকট নেমে আসার কথা জানান শ্রমিকদের অনেকেই। তারা জানান, দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল তারা। এক দিন কাজ না হলে সেদিনের বাজারও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে হয়।

শ্রমিক আবদুল কুদ্দুস বলেন, আমাদের কোনো মাসিক বেতন নাই। আজ কাজ করলে আজ খাওয়া হবে। কাজ না থাকলে ধার করে সংসার চালাতে হয়।

প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ঠিকাদার, বাড়ির মালিক কিংবা ব্যবসায়ীরা শ্রমিক নিতে আসেন। কাজের ধরন অনুযায়ী মজুরি নির্ধারণ করা হয়। দক্ষ শ্রমিকদের মজুরি তুলনামূলক বেশি হলেও সাধারণ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যেই দরদাম শেষ হয়।

শ্রমিক নিতে আসা ত্রিশাল পৌর এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বাড়ির নির্মাণকাজের জন্য মাঝেমধ্যে এখান থেকে শ্রমিক নিয়ে যাই। এখানে একসঙ্গে অনেক শ্রমিক পাওয়া যায়, তাই সময়ও বাঁচে।

স্থানীয় ঠিকাদার শাহীন মিয়া বলেন, ভালো ও অভিজ্ঞ শ্রমিক পেতে হলে একটু বেশি মজুরি দিতে হয়। তবে কাজের বাজার আগের তুলনায় কিছুটা মন্দ।

শ্রমিকদের কারও বয়স ২০, কারও ৬০ ছুঁইছুঁই। বয়স বাড়লেও থেমে নেই সংগ্রাম। পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের লেখাপড়া কিংবা চিকিৎসার খরচ মেটাতে প্রতিদিনই তাদের দাঁড়াতে হয় এই হাটে।

এই ধরনের শ্রমিকের হাট দেশের অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের একটি বাস্তব চিত্র। যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ কোনো স্থায়ী চাকরি বা সামাজিক নিরাপত্তা ছাড়া শুধু একটি দিনের কাজের আশায় অপেক্ষা করেন।

সূর্য যখন একটু ওপরে ওঠে, তখন হাটটিও ফাঁকা হতে শুরু করে। কেউ কাজ পেয়ে চলে যান নির্মাণস্থলে, কেউ যান কৃষিজমিতে, কেউ আবার মাটি কাটার কাজে। আর যাদের ভাগ্যে কাজ জোটে না, তারা ফিরে যান বাড়ির পথে পরদিন আবার ভোরে একই জায়গায় দাঁড়ানোর প্রত্যাশা নিয়ে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ