ভারতের আসামে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যের পাঁচ জেলায় এখনও বন্যার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, রাজ্য সরকার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর জন্য একাধিক ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন, গবাদি পশু ও সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে এবং নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধে স্থগিতাদেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো।
রাজ্যের প্রায় ১৩ হাজার মানুষ ৫৪টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ২৬টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র ৫ হাজার ৩৮৪ জনকে সেবা দিয়ে আসছে। সরকার ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির দ্রুত মূল্যায়নের দিকেও নজর দিয়েছে। মেরামতের জন্য তহবিল যত দ্রুত সম্ভব বরাদ্দ করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, শিবসাগর ও চরাইদেও থেকে একজন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফলে এ বছর বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৯৯ জনের মধ্যে চরাইদেওতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলায় ৭৭ হাজার ৪৫৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এরপর রয়েছে শিবসাগর, যেখানে ৬৩ হাজার ৪৯২ জন এবং জোরহাটে ৩৪ হাজার ৬৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সরকার একই দিনে এনবিএফসিগুলোর সঙ্গেও বৈঠক করবে। পাশাপাশি শিবসাগর, চরাইদেও, জোরহাট ও গোলাঘাট এই চারটি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধে স্থগিতাদেশ দেওয়ার জন্য তাদের অনুরোধ জানানো হবে।