এ বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করতে বেশি অর্থের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্টরা। বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে তাদের। অধিগ্রহণেরও ঝামেলা নেই। প্রয়োজন রানওয়ে কার্পেটিং, ফায়ার সার্ভিস ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের জনবল। বর্তমানে বিমানবন্দরে ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী তিন শিফটে কাজ করছেন।
বিমানবন্দর-লাগোয়া কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)। যেখানে দেশি-বিদেশি ৪৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান পণ্য উৎপাদন করছে। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কুমিল্লা ইপিজেড থেকে রপ্তানি হয়েছে ৯০২.২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৫৬৫.৮৫ মিলিয়ন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮১৪.৮২ মিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭৯০.৯৪ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭১১.৩৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
এ ছাড়াও কুমিল্লা প্রবাসী-অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে এক নামে পরিচিত। গত পাঁচ বছরে এই জেলা থেকে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে গিয়েছেন সাড়ে ৪ লাখেরও বেশি মানুষ। জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের তথ্য মতে, ২০২৫ সালে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ গিয়েছেন ৭৬ হাজার ৩৩১ জন, ২০২৪ সালে ৯২ হাজার ৯১১ জন, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫২০ জন, ২০২২ সালে ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৭ জন এবং ২০২১ সালে জেলা থেকে ৬৮ হাজার ৫৮৬ জন।এসব কর্মীর অধিকাংশকেই ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হয়। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়—দুটিই বাড়ে। স্থানীয়দের দাবি, কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে। একই দাবি কুমিল্লা ইপিজেডের একাধিক ব্যবসায়ীর। তারা জানান, বিমানবন্দর চালু হলে ইপিজেডে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগকারী আসতেন। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হতো। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে কুমিল্লা বিমানবন্দর যেন পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়, সরকারের কাছে সেই দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে দীর্ঘদিন কুমিল্লা বিমানবন্দরে যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ কুমিল্লার প্রবাসীরাও। বিমানবন্দর থাকা সত্ত্বেও এর কার্যক্রম অসম্পূর্ণ থাকায় নিয়মিত বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন তারা। তাদের দাবি, প্রবাসী-অধ্যুষিত কুমিল্লাবাসীর প্রাণের দাবি, বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হোক।
কুমিল্লা বিমানবন্দরের সিএনএস প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, বিমানবন্দরটি সরকারের একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। ভারত, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের দৈনিক ২৫-৩০টি বিমান আমাদের ডিভিওআর ও ডিএমই সিগন্যাল ব্যবহার করে। এটি একটি আন্তর্জাতিক বিমান রুট। এর মাধ্যমে প্রতিবছর সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আসে। বর্তমানে আমরা ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী তিন শিফটে এখানে কাজ করছি। বর্তমানে বিমানবন্দরে নেভিগেশনাল যন্ত্রের আপডেট কাজ চলছে।
বন্ধ বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর একটি প্রস্তাব ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।