সিপিডির গবেষণা

কৃষক থেকে খুচরা বাজারে আসতে চালের দাম দ্বিগুণ হয়

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি পাইজাম চাল গড়ে ৩০ টাকা ৬৫ পয়সায় বিক্রি হয়। ওই চাল ব্যাপারী, মিলার, আড়তদার ঘুরে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হয় ৫৯ টাকা ৬৯ পয়সা। তার মানে, কৃষক বা ফার্ম থেকে খুচরা পর্যায়ে আসতে চালের দাম দ্বিগুণ হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘খাদ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাংলাদেশের বাজারব্যবস্থা, মুনাফার ও মধ্যস্বত্বভোগী’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত সংলাপে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন সিপিডির সিনিয়র গবেষক ফকরুদ্দিন আল কবির।

সিপিডির একই গবেষণায় অন্যান্য পণ্য নিয়েও বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, একইভাবে কৃষক বা ফার্ম থেকে খুচরা পর্যায়ে ভোক্তাদের কাছে আসতে মসুর ডালে দাম বাড়ছে ৭৮ শতাংশ, পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, আলুতে ৫০ শতাংশ, কাঁচা মরিচে ১১৬ শতাংশ, বেগুনে ৭২ শতাংশ, ডিমে ২৫ শতাংশ, গরুর মাংসে ১৩ শতাংশ, মাছে ১০ শতাংশ এবং ব্রয়লার মুরগিতে দাম বাড়ছে ২২ শতাংশ।

সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

বাংলাদেশে কেন উচ্চ মূল্যস্ফীতি—এ বিষয়ে অনুষ্ঠানে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, কোভিডের সময় বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও পরে কমেছে। কিন্তু বাংলাদেশে কমছে না। বাংলাদেশে ৯ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। দীর্ঘসময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকার অন্যতন কারণ হলো এ দেশে লজিস্টিক খরচ বেশি। সারা বিশ্বে লজিস্টিক খরচের সাধারণ হিসাব হলো মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০ শতাংশের সমান, কিন্তু বাংলাদেশে তা ১৬ শতাংশ।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দুই বছর ধরে এক কোটি টনের বেশি আলু উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু দুই বছর আগেও আলুচাষিরা টাকা (উৎপাদন খরচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয়) পাননি, এখনো পান না। কেন কৃষকেরা আবার আলু চাষ করছেন? তাঁরা এই বাজার নিয়ে প্রকৃত অর্থ পান না। তাঁর মতে, সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লজিস্টিক খরচ কমাতে হবে। আমদানি খরচও কমাতে হবে। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ চাঁদাবাজি বন্ধের কথা বলেন, আমি বলি “আনঅ্যাকাউনটেন্ট” খরচ কমাতে হবে। আমরা উৎপাদনের শুরু থেকে বাজার পর্যন্ত আসা পর্যন্ত প্রতিটি স্তর চিহ্নিত করছি, কোথায় সমস্যা আছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ