‘স্নানঘরে অঝোরে কাঁদতাম, রজোঃনিবৃত্তির পর্বে নিজেকে কী ভাবে সামলেছিলেন, খোলসা করলেন ভাগ্যশ্রী

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রজোঃনিবৃত্তির পর্বে মহিলাদের শরীরে ও মনে একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। ঘন ঘন বদলে যেতে থাকে মেজাজ। হরমোনের ওঠা-নামা ভিন্ন-ভিন্ন ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে থাকে। চিকিৎসার ভাষায় এই পর্যায়কেই বলে ‘পেরিমেনোপজ’, যার মুখোমুখি হতে হবে সব মেয়েকেই। এই সময়ের ধাক্কাটা প্রবল, সেটা কী ভাবে সামলানো যায় তার টিপ্‌স দিয়েছেন অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী।

রজোঃনিবৃত্তির পর্যায়টি খুবই কঠিন। ঋতুচক্র শুরুর যেমন নির্দিষ্ট সময় আছে, তেমনই ঋতুবন্ধও হয় সময় ধরেই। কারও কিছুটা আগে, কারও পরে। ঋতুচক্র হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় না, বরং এই পর্বটা আসে ধীরে-ধীরে। আর রজোঃনিবৃত্তির এই পর্বটিতেই মহিলাদের শরীরে ও মনে একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। ঘন ঘন বদলে যেতে থাকে মেজাজ। হরমোনের ওঠা-নামা ভিন্ন-ভিন্ন ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে থাকে। চিকিৎসার ভাষায় এই পর্যায়কেই বলে ‘পেরিমেনোপজ’, যার মুখোমুখি হতে হবে সব মেয়েকেই। এই সময়ের ধাক্কাটা প্রবল, সেটা কী ভাবে সামলানো যায় তার টিপ্‌স দিয়েছেন অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী।

৫৭ বছর বয়সী অভিনেত্রী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অকপটে জানালেন তাঁর পেরিমেনোপজ় পর্বের কথা। ভাগ্যশ্রী বলেন, ‘‘যখনই মনে হত কান্না পাচ্ছে, আমি স্নানঘরে শাওয়ারের নীচে দাঁড়িয়ে থাকতাম। মনে হত জল আমার সব নেগেটিভ এনার্জি ধুয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে। ওই সময়ে দিনে ৪-৫ বার স্নান করতাম।’’

মেনোপজ তাঁকে কী শেখাল? অভিনেত্রী জানালেন, ওই সময়ে তিনি বহু চিকিৎসকের কাছে গিয়েছেন। তাঁদের অনেক প্রশ্ন করেছেন। নিজের শরীরকে নতুন করে চিনতে শিখেছেন। শরীর সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হয়েছেন অভিনেত্রী। ভাগ্যশ্রী বলেন, ‘‘হঠাৎ ডায়লগ ভুলে যাওয়া, কী জন্য ঘর থেকে বেরিয়েছি ভুলে যাওয়া— এই সব আমার সঙ্গে ওই পর্বে ঘটেছে। ঘন ঘন মেজাজ পরিবর্তন হত, হট ফ্ল্যাশ হত। অল্পতেই রেগে যেতাম।’’

ভাগ্যশ্রী বলেন, ‘‘সঠিক খাদ্যাভাস আর ব্যায়াম আমাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। আমি স্বামী হিমালয় দাসানিকে আগেই বলে রাখতাম, আমি যখন-তখন মেজাজ হারিয়ে ফেলতে পারি। তুমি শুধু শুনে যেও, কোনও উপদেশ দিও না।’’ ভাগ্যশ্রী আরও বলেন, ‘‘রাতে এত ঘাম হত যে ভয়ঙ্কর লাগত। ঘামে পুরো ভিজে যেতাম। বার বার রাতপোশাক পাল্টাতে হত। বিছানার চাদরও ভিজে যেত। ঘুম হত না, শরীরে অস্বস্তি লাগত।’’
পেরিমেনোপোজ় পর্বে ভাগ্যশ্রী বেদানার রস, জবা ফুলের চা, বাদাম, প্রচুর ফাইবার খেতেন। চিনি কমিয়ে দিয়েছিলেন একেবারে। শরীর চাঙ্গা রাখতে ধ্যান করতেন নিয়মিত। রোদ ও খোলা হাওয়ায় সময় কাটাতেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ