শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীতে দিনভর বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা অবরোধ কর্মসূচি পালন করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার অভিযোগও ওঠে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা তাদের তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দিকে যান তারা। পরে সংসদ ভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
অবরোধ চলাকালে পুলিশ শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে তারা অবস্থান চালিয়ে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
এরপরও আন্দোলন থামেনি। রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। বিভিন্ন দাবির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। আন্দোলনকারীরা দুর্যোগ পরিস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিলের ওপর আনীত সংশোধনী প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন জেলাগুলোতে যেসব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, সেগুলো নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় নেওয়া হবে। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বোর্ডের জন্য পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, যুক্তিবিদ্যা ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অন্য একটি প্রশ্নপত্র সেটে যে দিন নেওয়া হবে, একই সময়ে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোও অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারেও বলতে চাই। আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলি নাই। যদি কেউ আহত হয়ে থাকেন, সিম্প্লি আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’
উল্লেখ্য, সোমবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে শিক্ষামন্ত্রী বর্তমান শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করেছেন– এমন দাবি করা হয়। ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।