বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে সপ্তাহ তিনেক হতে চলল। কিন্তু এর রঙিন সব স্মৃতি যেন এখনো টাটকা। গ্যালারিতে উন্মাদনা, মাঠে পারফরম্যান্সের ঝলক আর জয়ের পর উল্লাস। কিন্তু এই জমকালো আলোর নিচে যে থমথমে অন্ধকার জমে ছিল, ফুটবল–বিশ্ব তা হয়তো এতটা টের পায়নি। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের নিরাপত্তাব্যবস্থা যেন ঝুলছিল একটা সুতায়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও অংশ নেওয়া দেশগুলোর পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্র (আইপিসিসি) বিশ্বকাপজুড়ে প্রতিদিন নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেই গোপন নথির একটি অংশ প্রকাশ করেছে স্পেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেনসা ইবেরিকার অনুসন্ধানী অপরাধবিষয়ক চ্যানেল। সেখান থেকেই জানা গেছে, বিশ্বকাপের অনেক তারকা ফুটবলার, কোচ ও রেফারিরা পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে প্রাণনাশের হুমকি ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন।

ম্যাচ চলার সময়ও পুলিশ হেডকোয়ার্টারে ফোন আসে। বলা হয়, স্টেডিয়ামের তিনটি ডাস্টবিনে ‘তিনটি বোমা’ রাখা আছে। এরপর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে পুরো স্টেডিয়ামে ব্যাপক তল্লাশি চালাতে হয়।

শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নয়, মাঠের পারফরম্যান্স বা ভুলের কারণেও খেলোয়াড়দের পেতে হয়েছে হাড়হিম করা হুমকি। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে মাঠে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ার পর রিয়াল মাদ্রিদের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। প্যারাগুয়ের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও এমবাপ্পেকে নিয়ে কটূক্তি করা হয়। ৫ ও ৬ জুলাই প্যারাগুয়েতে তাঁর প্রতিকৃতি পোড়ানো হয়। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
পেনাল্টি মিস করার পর কলম্বিয়ার ফুটবলার জামিনটন ক্যাম্পাজ বিশ্বকাপ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে দেশে ফিরতেও পারেননি। স্পেন ও ফ্রান্সের ম্যাচে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করে পেনাল্টি দেওয়ায় ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়েও পেয়েছেন মারাত্মক হুমকি।
তবে হুমকির সংখ্যার দিক থেকে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ার। আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিতর্কিত ম্যাচের পর তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রায় ‘ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা’ পাঠানো হয়। এসব বার্তার সিংহভাগই ছিল মিসরীয় নাগরিকদের কাছ থেকে।
শুধু লেতেক্সিয়ার নন, ওই ম্যাচে ভিএআর দায়িত্বে থাকা ফরাসি রেফারি উইলি দেলাজোদকেও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে ফ্রান্সে এই দুই রেফারির বাড়ি ও স্বজনদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা পুলিশি পাহারা বসাতে হয়েছিল।