রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফের প্লাবিত হয়েছে প্রায় ২০টি গ্রাম। গত ৭ জুলাই এক দফা প্লাবিত হওয়ার পর পানি কিছুটা কমলেও শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতের মুষলধারের বৃষ্টিতে আবারও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে ফারুয়া বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আতঙ্কে রাতভর ঘরের মালামাল সরিয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ফারুয়া বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হারুন বলেন, আগের দফায় শতাধিক দোকান প্লাবিত হলেও এবার আরও বেশি বৃষ্টির কারণে পুরো বাজার পানির নিচে চলে গেছে। প্রতিবছর বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বাজারটি তলিয়ে গিয়ে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তিনি বাজারটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ফারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে বিদ্যালয়ের নিচতলা প্লাবিত হয়েছে। এতে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় চরম অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছে।
বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, তীব্র স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় এখনই ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। স্রোত কমে এলে দ্রুত ত্রাণ বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, রাজস্থলী-বিলাইছড়ি সীমান্ত সড়কের উদয়চর এলাকায় সড়ক ধসে পড়ায় বড় ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সার্বক্ষণিক পাশে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এদিকে শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রুহুল আমিনের পাঠানো তথ্য ও ছবিতে ত্রাণ প্যাকেজিং কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।