গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার পান্থাপাড়া মৌজায় দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে ভোগদখলীয় বৈধ জমি জবরদখলের অপচেষ্টা এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। শনিবার গোবিন্দগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন হামিদা বেগমের ছেলে আবু হেনা মোস্তফা কামাল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার পান্থাপাড়া মৌজায় আঃ মালেক প্রধানের কাছ থেকে হামিদা বেগম ২৭ শতক জমি ক্রয় করেন। সেই সূত্র ধরে ১৯৮৯ সাল থেকে দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে পরিবারটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ওই জমি ভোগদখল করে আসছে।
কিন্তু সম্প্রতি ফজলুল বারী ও আইরিন পারভীন গং হঠাৎ করে এই বৈধ জমির মালিকানা অবৈধভাবে দাবি করে আসছেন। এ বিষয়ে আইরিন পারভীন গোবিন্দগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করলে থানা কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষের দলিল ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন। আইনের বিধান অনুযায়ী যাদের দলিল আগে সম্পাদিত হয়েছে, তারাই জমির প্রকৃত মালিক—এই মর্মে প্রশাসন বৈধ মালিকদের পক্ষে এবং তাদের ভোগদখল বজায় রাখার পক্ষে মত দেয়।
তবে থানা প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিবাদী পক্ষ গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি মামলা (নং- ৪৩১/২০২৫) দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত উভয় পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার এবং সিভিল কোর্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির আদেশ দেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, আদালতের আদেশ ও থানা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না করে বিবাদী পক্ষ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সম্প্রতি ওই জমিতে একটি ছাপড়া ঘর তুলে দখলের পাঁয়তারা চালায়। এ সময় বৈধ সম্পত্তিতে বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর অতর্কিত ও বর্বরোচিত হামলা চালায়।
এই অন্যায়ের প্রতিকার পেতে বর্তমানে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা নং- ৩৩৭/২০২৬ এবং ১০৭/১০৮ ধারায় মামলা নং- ৫১৪/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলা দুটির আগামী শুনানির দিন যথাক্রমে আগামী ২২ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ধার্য রয়েছে।
বিষয়টি সম্পূর্ণ বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও আইরিন পারভীন গং আইন-আদালতকে তোয়াক্কা না করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রেস ক্লাবে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ সম্মেলন করেছেন বলে দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই মিথ্যাচারের প্রতিকার এবং পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমির আইনি অধিকার সুরক্ষার দাবি জানানো হয়।