মধ্যপ্রাচ্যে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এর অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট সম্পদকে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হুমকিকে বিশ্বের সব স্টারলিংক ব্যবহারকারী বা ব্যক্তিগত টার্মিনালের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ইরানের দাবি অনুযায়ী স্টারলিংকসহ ইলন মাস্ক-নিয়ন্ত্রিত কিছু প্রযুক্তি ও যোগাযোগ অবকাঠামো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই কারণেই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত এসব অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট সম্পদকে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে ইরানের বক্তব্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত স্টারলিংক টার্মিনাল, সাধারণ গ্রাহক কিংবা বেসামরিক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্যবস্তু করার কোনো সরাসরি ঘোষণা নেই। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বক্তব্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত অবকাঠামো, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন সম্পদের প্রতিই ইঙ্গিত করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধ ও সংঘাতে স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে স্টারলিংক যোগাযোগ, ডেটা আদান-প্রদান এবং জরুরি সংযোগ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফলে এ ধরনের প্রযুক্তি এখন শুধু বাণিজ্যিক সেবা নয়, অনেক দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই ভবিষ্যতের সংঘাতে প্রচলিত সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি সাইবার অবকাঠামো, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্কও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। এদিকে বিষয়টি নিয়ে ইলন মাস্ক, স্পেসএক্স কিংবা এক্স কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ইরানের অভিযোগ যে স্টারলিংক সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে, সে দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, ইরান-ইসরায়েল বৈরিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি অবকাঠামোকে ঘিরে নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ স্টারলিংক গ্রাহকদের জন্য কোনো বৈশ্বিক নিরাপত্তা সতর্কতা বা ব্যক্তিগত টার্মিনালের বিরুদ্ধে হামলার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাদের মতে, পরিস্থিতি এখনো পর্যবেক্ষণাধীন। ইরানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া কী হবে—তা সময়ই বলে দেবে।