বাইন্যান্সে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ১৬০কোটি টাকার সাইবার হামলা, মাত্র ২০ মিনিটে উধাও বিপুল সম্পদ

শফিকুল আলম সেলিম
প্রকাশের সময় শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সে ভয়াবহ সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। হ্যাকারদের হামলায় প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ লাখ ৮৬ হাজার ১৬০কোটি টাকার সমপরিমাণ ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবরের এ ঘটনায় বড় অংশের অর্থ মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটিকে ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতি ডলার মূল্য বাংলাদেশী টাকায় ১২৪ টাকা ধরে হিসাব করলে ৬৩৪কোটি ডলারের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭ লাখ ৮৬ হাজার ১৬০ কোটি টাকা।। অর্থাৎ এই অর্থ অর্থনীতির জন্য বিশাল অঙ্ক।

বাইন্যান্সের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির হট ওয়ালেট থেকে অননুমোদিত লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টো সম্পদ সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে একজন ডেভঅপস প্রকৌশলীর ল্যাপটপের নিরাপত্তা ভেঙে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় প্রবেশের তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী তদন্তে আরও কয়েকটি নিরাপত্তা দুর্বলতার সন্ধান মিলেছে।

বাইন্যান্স জানিয়েছে, তাদের কোনো ওয়ালেটের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চাবি ফাঁস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে হামলার পুরো প্রক্রিয়া এখনো তদন্তাধীন।

হামলার পর বিভিন্ন ব্লকচেইন প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল মুদ্রা ইস্যুকারীদের সহযোগিতায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা।

এর মধ্যে টেথার প্রায় ১৫৭ কোটি ডলার এবং সার্কেল ৮০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের ডিজিটাল মুদ্রা আটকে দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইন্যান্স জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের বিপরীতে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংরক্ষণ করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ৮৬ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ আগে থেকেই রয়েছে। বাকি সম্পদ বাজার থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গ্রাহকদের অর্থের ক্ষতি নিজেদের তহবিল ও সুরক্ষা তহবিল থেকে পূরণ করা হবে। এ ঘটনায় অর্থ উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা যাচাই শেষে পর্যায়ক্রমে তা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠীর যোগসূত্র রয়েছে বলে কয়েকটি সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সন্দেহ। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়ীদের পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে অনলাইনে সংরক্ষিত বিপুল অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কঠোর নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ