২৬ জুন, আন্তর্জাতিক নির্যাতনবিরোধী দিবস। সারা বিশ্বে মানুষ যাতে নির্যাতনের শিকার না হয় তার বিভিন্ন উপায় নিয়ে এই দিবসে আলাপ আলোচনা হয় এবং কর্মপন্থা ঠিক করা হয়। জাতিসংঘ ঘোষিত দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক নির্যাতনবিরোধী দিবসটি উৎসর্গ করেছে বিশ্বব্যাপী যারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তাদের উদ্দেশে। নির্যাতিতদের পুনর্বাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক পরিষদের সদর দফতরটি ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহাগেন এ অবস্থিত।
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হবার মাত্র অল্প কয়েক বছরের মধ্যে এই সংস্থা যে কয়েকটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে বিশ্বজুড়ে নির্যাতন বন্ধের প্রচেষ্টা তার মধ্যে অন্যতম। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তির মতো জাতিসংঘের বিভিন্ন দলিলে এর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক অথবা মর্যাদাহানিকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে কনভেনশন গ্রহণ করে, যা ১৯৮৭ সালের ২৬ জুন কার্যকর হয়।
সাধারণ পরিষদের ১৯৯৭ সালের ১২ ডিসেম্বর গৃহীত ৫২/১৪৯ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি বছর ২৬ জুন নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং পরবর্তী বছর অর্থাৎ ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো এই দিবসটি পালিত হয়।
১৯৯৮ সালের মে মাস পর্যন্ত বিশ্বের ১০৫ টি দেশ এই কনভেনশন অনুমোদন করে। কনভেনশনের প্রতিটি রাষ্ট্রপক্ষ তাদের জাতীয় আইনে নির্যাতনকে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে সম্মত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষসমূহকে কনভেনশন প্রতিপালন পরিবীক্ষণ ও কনভেনশনের বিধানাবলী বাস্তবায়নের জন্যে ১৯৮৭ সালে গঠিত মানবাধিকার চুক্তি সংস্থা নির্যাতনবিরোধী কমিটির কাছে রিপোর্ট করতে হয়। রাষ্ট্রপক্ষসমূহ কর্তৃক নির্বাচিত ১০ জন স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠিত।
মানবাধিকার ঘোষণার ৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কাউকে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা মর্যাদাহানিকর আচরণের শিকার করা যাবে না।
১৯৪৮ সালে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণের নিন্দা জানায়। ১৯৭৫ সালে, বেসরকারী সংস্থাগুলির (এনজিও) তীব্র কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়ায়, সাধারণ পরিষদ নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির শিকার হওয়া থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষা সম্পর্কিত ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে ।
১৯৮০ এবং ১৯৯০ এর দশকে, আইনি মানদণ্ড এবং উপকরণ তৈরি এবং নির্যাতন নিষিদ্ধকরণ কার্যকর করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে তহবিল প্রদানের জন্য ১৯৮১ সালে সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবী তহবিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক, অথবা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে কনভেনশনটি ১৯৮৪ সালে সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয় এবং ১৯৮৭ সালে কার্যকর হয়। রাষ্ট্রপক্ষগুলি কর্তৃক এর বাস্তবায়ন স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের একটি সংস্থা, নির্যাতন বিরোধী কমিটি দ্বারা তদারক করা হয় ।
নির্যাতন বিষয়ক প্রথম বিশেষ প্রতিবেদক , একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ যাকে বিশ্বের নির্যাতনের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন করার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, ১৯৮৫ সালে মানবাধিকার কমিশন কর্তৃক নিযুক্ত করা হয়েছিল।
২০০২ সালে, নির্যাতন বিরোধী কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রোটোকল গৃহীত হয়, যা আটক স্থানগুলির জন্য একটি আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থার অনুমতি দিয়ে নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে একটি চুক্তি। প্রোটোকলটি রাষ্ট্রগুলিকে আটক ব্যক্তিদের সাথে আচরণ পরীক্ষা করার জন্য, নির্যাতনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা জোরদার করার জন্য সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করার জন্য এবং বিদ্যমান বা প্রস্তাবিত আইন সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য স্বাধীন জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য করে। এটি নির্যাতন প্রতিরোধ সংক্রান্ত উপকমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়। আজ পর্যন্ত, ৯৪ টি রাষ্ট্র প্রোটোকলের পক্ষে।