অসন্তোষ ও ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে বইমেলা

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

দেরিতে শুরু হওয়া বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ আজ রবিবার (১৫ মার্চ) শেষ হচ্ছে । বইমেলা আয়োজন নিয়ে দেরি করে সিদ্ধান্ত, পবিত্র রমজান মাস এবং শেষ সময়ে বৃষ্টির কারণে প্রকাশক ও অংশীজনদের অসন্তোষ ও ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়েই শেষ হচ্ছে এবারের বইমেলা।

নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই অনেকটা জোর করেই এবার মেলা শুরু করে বাংলা একাডেমি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট থাকায় অন্তবর্তী সরকার যথাসময়ে বইমেলা শুরু না করে পরে মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। প্রকাশকদের অসন্তোষের মুখে প্রথমে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরুর ঘোষণা দেয় বাংলা একাডেমি।

তবে প্রকাশকরা ওই সময়ে বইমেলা আয়োজনের বিপক্ষে মত দেন। তাদের দাবি ছিল, ঈদের পর বইমেলা আয়োজন করতে হবে। কিন্তু বাংলা একাডেমি সে প্রস্তাবে রাজি হয়নি। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন সিদ্ধান্ত জানায় বাংলা একাডেমি। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্তে আরও জানানো হয়, বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। ২০২৬ সালের বইমেলায় যেসব প্রকাশক আগে স্টল বরাদ্দ নেননি, তাদের ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টার মধ্যে আবেদন করতে বলা হয় এবং একইদিন সন্ধ্যা ৬টায় তাদের স্টল বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানানো হয়।

এরপর সাড়ে ৩০০ প্রকাশকের ঐক্য দাবি করে একটি পক্ষ জানায়, আগে যারা প্যাভিলিয়ন করেছে তারা প্যাভিলিয়ন রেখে দিলে তারা বইমেলায় অংশ নেবে না। এই পরিস্থিতিতে বাংলা একাডেমি প্যাভিলিয়ন সরানোর নির্দেশনা দেয়। পাশাপাশি প্যাভিলিয়ন অপসারণ এবং যারা টাকা জমা দিয়েও স্টল করতে পারেননি, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এসব সিদ্ধান্ত ও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই শুরু হয় এবারের বইমেলা।

শনিবার (১৪ মার্চ) মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, বই বিক্রির সংখ্যা সামান্য বাড়লেও পাঠক উপস্থিতি খুবই কম। প্রকাশকরা জানিয়েছেন, এবার নতুন বইয়ের সংখ্যাও আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় কম। বই বিক্রিও কম হয়েছে, মেলায় জনসমাগমও তুলনামূলক কম।

বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অমর একুশে বইমেলায় মোট তিন হাজার ২৯৯টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছিল। এবার নতুন বই জমা পড়েছে মাত্র এক হাজার ৩৩৭টি, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। স্টল ও বই—দুই ক্ষেত্রেই এবার সংখ্যা কমেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ