অডিওবুকের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে। ২০২৩–২৪ সালে যুক্তরাজ্যের প্রকাশনা শিল্পে অডিওবুক থেকে আয় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রকাশনায় অডিওবুক ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়: অডিওবুক কি সত্যিই “ঠিকঠাক” বই পড়া হিসেবে গণ্য করার মতো? শুয়েবসে, কাজটাজ করতে করতে, রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কিংবা ঘুমানোর আগে বই শোনা কি চুপচাপ বসে বই পড়ার মতোই মূল্যবান?
লেখক, প্রকাশক এবং পাঠক সবার উত্তর হচ্ছে: হ্যাঁ।
রিডিং এজেন্সির সৃজনশীল পরিচালক ডেবি হিকস বলেন, “পড়া মানে মাধ্যম নয়, বিষয়বস্তু। পড়ার আসল বিষয় হলো কনটেন্ট।” রিডিং এজেন্সি একটি দাতব্য সংস্থা। তারা পড়ার ব্যক্তিগত ও সামাজিক উপকারিতা নিয়ে কাজ করে এবং স্কুল, কারাগার ও নানা কমিউনিটিতে যুক্তরাজ্যব্যাপী পাঠ-প্রচার কর্মসূচি চালায়। হিকস একথাও স্বীকার করেন, ঐতিহ্যগতভাবে অডিওকে অনেক সময়ই দ্বিতীয় সারির মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়েছে। “কিন্তু আমাদের ‘পাঠক’ হওয়ার ধারণাটিকে নতুনভাবে ভাবতে হবে। মুদ্রিত বইকে শ্রেষ্ঠ ধরে নেওয়ার এই পুরোনো মূল্যবোধের স্তরভেদ ঝেরে ফেলতে হবে। পড়া মানে মাধ্যম নয়, পড়া মানে বিষয়বস্তুও।”
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, ডিসলেক্সিয়া ব্যাধিতে আক্রান্ত কিংবা সময়ের অভাবে পড়তে না পারা মানুষদের জন্য অডিওবুকের উপকারিতা স্পষ্ট। পাশাপাশি যারা সাধারণত পড়ায় আগ্রহী নয়, তাদের জন্যও ভালো মাধ্যম হতে পারে। এক পরিসংখ্যান বলছে, যেখানে নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি বই পড়েন, সেখানে পুরুষদের মধ্যে (৩৩%) সাপ্তাহিকভাবে অডিওবুক শোনার হার নারীদের (২৪%) চেয়ে বেশি।
সংস্থাটির গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পাঠ-অনুধাবন দক্ষতা বা শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অডিওবুক মুদ্রিত বইয়ের মতো কার্যকর।
প্রকাশক সমিতির অডিও পাবলিশার্স গ্রুপের চেয়ারম্যান জন ওয়াট কুইনের এই মন্তব্যকে স্বাগত জানান। তিনি ২০২৪ সালে ন্যাশনাল লিটারেসি ট্রাস্টের এক গবেষণার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে দেখা যায়, ৩৭.৫% শিশু ও তরুণ মনে করে, অডিওবুক শোনা তাদের বই পড়ায় আগ্রহ বাড়িয়েছে। অর্ধেকেরও বেশি (৫২%) বলেছেন, মানসিক চাপের সময় অডিওবুক তাদের সাহায্য করে।
ওয়াট বলেন, “অডিওবুক গল্প বলার প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে। শিশুদের পড়তে বা শুনতে আগ্রহী করে তোলার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। পুরো প্রকাশনা শিল্পের জন্যই এখন অডিও ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’। গত পাঁচ বছরে এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। তিনি আরও বলেন, “এখন অডিও বিক্রি প্রিন্ট ও ডিজিটাল কপির চেয়েও বেশি। সেলিব্রিটি আত্মজীবনীগুলোতে লেখক নিজেরাই কণ্ঠ দিচ্ছেন। এসব এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। দশ বছর আগে কোনো তারকাকে মাইক্রোফোনের কাছে আনাই কঠিন ছিল।”
২০২২ সালে স্পটিফাই অডিওবুক চালু করেছে। স্পাইরাকলের মতো নতুন প্ল্যাটফর্ম বাজারে এসেছে। অ্যামাজনের অডিবল সেবায় বিখ্যার অডিও প্রযোজনাগুলোও যুক্ত হয়েছে। যেমন, প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস-এর নতুন অডিও সংস্করণে কণ্ঠ দিয়েছেন মারিসা আবেলা, হ্যারিস ডিকিনসন, গ্লেন ক্লোজ, বিল নাই ও জেসি বাকলি।