রফতানিতে ধাক্কা: ফেব্রুয়ারিতে পতন ১৩ শতাংশের বেশি

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) প্রথম আট মাসে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রফতানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে আরএমজি রফতানি আয় হয়েছে ২৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিটওয়্যার রফতানি দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারে, হ্রাস ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অপরদিকে ওভেন রফতানি হয়েছে ১২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম। অর্থাৎ দুই প্রধান উপখাতেই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে বড় ধস
শুধু ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। এ মাসে আরএমজি রফতানি হয়েছে ২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ কম। খাতভিত্তিক হিসাবে— নিটওয়্যার রফতানি: ১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার (হ্রাস ১৫ দশমিক ৪৬%) ওভেন রফতানি: ১ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার (হ্রাস ১০ দশমিক ৮৬%)। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে নিট খাতে পতন তুলনামূলক বেশি হয়েছে, যদিও ওভেনেও দ্বি-অঙ্কের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

বছরভিত্তিক তুলনায় পরিবর্তন

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একই সময়ে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) আরএমজি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল। পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রফতানি আয় দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি ছিল।

২০২৩-২৪ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে— ওভেন খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৮২%। নিট খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৭৩%।

কিন্তু চলতি অর্থবছরে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। বিশেষ করে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে অর্ডার কমে যাওয়া, মূল্যছাড়ের চাপ এবং বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়ার প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে।

কেন কমছে রফতানি?

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে ভোক্তা চাহিদা মন্থর হওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং খুচরা বিক্রিতে ধীরগতির প্রভাব পড়েছে নতুন অর্ডারে। পাশাপাশি প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে মূল্য প্রতিযোগিতা, কাঁচামালের খরচ ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপও রপ্তানিকারকদের মার্জিন কমিয়ে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেব্রুয়ারির মতো দ্বি-অঙ্কের পতন যদি ধারাবাহিক হয়, তাহলে চলতি অর্থবছরের মোট রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সামনের চ্যালেঞ্জ

আরএমজি খাত দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ জোগান দেয়। ফলে এ খাতে ধীরগতি সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে—বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিময় হার এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার বহুমুখীকরণ, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, দ্রুত লিড টাইম নিশ্চিত করা এবং ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে মান ও কমপ্লায়েন্স জোরদার করাই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসের তথ্য বলছে— গত বছরের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পর এবার তৈরি পোশাক রফতানিতে স্পষ্ট চাপ তৈরি হয়েছে। সামনে মার্চ-জুন সময়কালের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে, এ ধাক্কা সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ