২০ অক্টোবর অলি আহাদ এর মৃত্যুবার্ষিকী

ভাষার অধিকার থেকে গণতন্ত্রের সংগ্রাম: ইতিহাসের পাতায় অলি আহাদ

শফিকুল আলম সেলিম
প্রকাশের সময় সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

ইতিহাসের পাতায় কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের জীবন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার গল্প নয়; তাঁদের জীবন হয়ে ওঠে একটি জাতির অধিকার আদায়ের ইতিহাস। যাঁরা নিজের স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা, এমনকি জীবনের দীর্ঘ সময়টুকুও বিসর্জন দেন মানুষের মুক্তির জন্য, তাঁদের অবদান সময়ের সীমানা অতিক্রম করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকে। অলি আহাদ তেমনই একজন মানুষ। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের সংগ্রাম, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসে তাঁর নাম উচ্চারিত হয় গভীর শ্রদ্ধায়।

২০ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের এই দিনে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন ভাষাসংগ্রামী, রাজনীতিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অলি আহাদ। কিন্তু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে মানুষটি জীবনের দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন, রাজনৈতিক আপসের চেয়ে আদর্শকে বড় করে দেখেছেন, তাঁর সংগ্রামের গল্প কখনো শেষ হওয়ার নয়। তাঁর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রাজনীতি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি নয়; রাজনীতি হতে পারে মানুষের মুক্তির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার কঠিন শপথ।

১৯২৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অলি আহাদ। তাঁর বাবা আবদুল ওহাব ছিলেন জেলা রেজিস্ট্রার। পারিবারিক পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান তাঁকে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠার পথে আটকে রাখতে পারেনি। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল প্রচলিত ক্ষমতার কাছে মাথা নত না করে নিজের বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস।

১৯৪৪ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে তিনি ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে ১৯৪৬ সালে আইএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য জীবনের একটি শিক্ষাবর্ষ হারিয়েছিলেন তিনি। পরে ১৯৪৭ সালে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তখনো তিনি জানতেন না, এই বিশ্ববিদ্যালয়ই একদিন তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রামের সাক্ষী হয়ে থাকবে।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্ত হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও অলি আহাদের রাজনৈতিক চেতনা দ্রুত নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী বাঙালির ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে যথাযথ মর্যাদা দিতে প্রস্তুত নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগ বাঙালির মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। সেই ক্ষোভ ধীরে ধীরে রূপ নেয় অধিকার আদায়ের আন্দোলনে।

অলি আহাদ বুঝতে পেরেছিলেন, যে রাষ্ট্রের জন্য মানুষ সংগ্রাম করেছে, সেই রাষ্ট্রেই যদি নিজের ভাষায় কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে লড়তে হয়, তবে স্বাধীনতার স্বপ্ন এখনো অসম্পূর্ণ। তাই তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

একই বছরের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ধর্মঘট ও বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এটি ছিল তাঁর কারাজীবনের সূচনা। তরুণ বয়সেই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মূল্য অনেক সময় নিজের স্বাধীনতা দিয়েই দিতে হয়। কিন্তু কারাগারের দেয়াল তাঁর সংকল্পকে দুর্বল করতে পারেনি।

১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সঙ্গে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সাক্ষাৎ ও স্মারকলিপি পেশের উদ্যোগেও তিনি যুক্ত ছিলেন। ভাষার প্রশ্নে তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট মাতৃভাষার মর্যাদা কোনো শাসকের দয়া কিংবা অনুগ্রহের বিষয় নয়; এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যে স্নাতক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেও তিনি উচ্চশিক্ষার স্বাভাবিক পথ ধরে এগোতে পারেননি। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাঁর শিক্ষাজীবনে নেমে আসে শাস্তিমূলক বাধা। ১৯৪৮ সালের ২৯ মার্চ তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছরের জন্য বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। পরে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকেও তাঁকে বঞ্চিত করা হয়। দীর্ঘ ৫৮ বছর পর, ২০০৬ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়।

একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবনে এটি ছিল গভীর বেদনার অধ্যায়। পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করেও রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে শিক্ষার অধিকার সংকুচিত হওয়া শুধু একজন মানুষের প্রতি অবিচার ছিল না; এটি ছিল মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আঘাত। তবু অলি আহাদ প্রতিশোধের রাজনীতি বেছে নেননি। তিনি বেছে নিয়েছিলেন সংগ্রামের পথ।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে বক্তব্য দিলে বাঙালির মনে জমে থাকা ক্ষোভ নতুন করে বিস্ফোরিত হয়। ছাত্রসমাজ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। গড়ে ওঠে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রামের উদ্যোগ। আন্দোলনের প্রস্তুতি চলতে থাকে, সংগঠিত হতে থাকে ছাত্রসমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীরা।

২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হলে আন্দোলনকারীদের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত এসে দাঁড়ায়। পরদিন সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আন্দোলনে নামা হবে কি না, তা নিয়ে সংগ্রাম পরিষদে মতবিরোধ দেখা দেয়। অলি আহাদ ছিলেন ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে। তাঁর কাছে প্রশ্নটি শুধু একটি সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার ছিল না; প্রশ্নটি ছিল মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কত দূর যেতে প্রস্তুত বাঙালি।

২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে নামেন। পুলিশের বাধা, গ্রেপ্তার ও গুলির মুখেও তাঁরা পিছু হটেননি। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগ বাঙালির ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে আছে। সেই রক্তাক্ত আন্দোলনের পেছনে ছিল অলি আহাদের মতো সংগঠকদের সাহস, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও দৃঢ় প্রত্যয়। ভাষার দাবিকে তাঁরা ছাত্রসমাজের গণ্ডি থেকে বের করে বাঙালির সামগ্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পরিণত করেছিলেন।

ভাষার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কারণে তাঁকে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। তাঁর জীবনের দীর্ঘ ১৯ বছর কারাগারে কেটেছে বলে তাঁর জীবনীতে উল্লেখ পাওয়া যায়। ভাবা যায়, একটি মানুষের জীবনের কতগুলো বসন্ত, কতগুলো ঈদ, কতগুলো পারিবারিক মুহূর্ত, কত আনন্দ ও বেদনার দিন কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে হারিয়ে যেতে পারে! অথচ অলি আহাদের রাজনৈতিক জীবনকে শুধু কারাবাসের হিসাব দিয়ে বিচার করা যায় না। তাঁর সংগ্রামের প্রকৃত পরিচয় নিহিত রয়েছে সেই বিশ্বাসে, যার জন্য তিনি বারবার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়েছেন।

ভাষা আন্দোলনের পরও তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রাম থেমে থাকেনি। তিনি পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাংগঠনিক দায়িত্বেও যুক্ত ছিলেন। পরে প্রচার সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মতো নেতাদের সঙ্গে তিনি রাজনীতি করেছেন।

১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনীতিতে যে গুরুত্বপূর্ণ বিভাজন তৈরি হয়, সেই সময় অলি আহাদ মাওলানা ভাসানীর সঙ্গে প্রগতিশীল ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক ধারার পক্ষে অবস্থান নেন। তাঁর রাজনীতির মূল শক্তি ছিল স্বাধীন চিন্তা। কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় কিংবা নেতার ঘনিষ্ঠতা তাঁর কাছে নীতির ঊর্ধ্বে ছিল না। রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি ডেমোক্রেটিক লীগ গঠন করেন। গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি নিজের অবস্থান ধরে রাখেন।

সাংবাদিকতার জগতেও অলি আহাদের অবদান স্মরণীয়। সাপ্তাহিক ইত্তেহাদ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন। কলম ও রাজপথ দুই জায়গাতেই তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাঁর রচিত জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫-১৯৭৫ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ও সমকালীন বাস্তবতার আলোকে রচিত এই বইয়ে উঠে এসেছে উপমহাদেশের বিভাজন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা, ভাষা আন্দোলন এবং স্বাধীনতার পূর্ববর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা অধ্যায়।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও অলি আহাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া এই স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের একটি আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন হলেও তাঁর প্রকৃত অর্জন আরও গভীর তিনি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন।

অলি আহাদের ব্যক্তিজীবনের আরেকটি পরিচয় তিনি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাবা। কিন্তু তাঁর পরিচয় কেবল কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পিতা হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি নিজেই একটি রাজনৈতিক অধ্যায়, একটি সংগ্রামী জীবনের নাম, একটি প্রজন্মের সাহসের প্রতীক।

২০১২ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতা তাঁকে শেষ পর্যন্ত থামিয়ে দেয়। কিন্তু যে মানুষটি জীবনের দীর্ঘ সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তাঁর আদর্শকে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মুছে ফেলা যায় না।

আজ অলি আহাদকে স্মরণ করার অর্থ শুধু ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো কিংবা মৃত্যুবার্ষিকীতে কয়েকটি আনুষ্ঠানিক বাক্য উচ্চারণ করা নয়। তাঁকে স্মরণ করার অর্থ হলো, ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা, গণতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মান করা, ভিন্নমতের মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং রাজনীতিকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে তুলে ধরার চেষ্টা করা।

যে মানুষটি মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কারাগারে গেছেন, শিক্ষাজীবনের ক্ষতি মেনে নিয়েছেন, বছরের পর বছর নিজের স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়েছেন, তাঁর জীবন আমাদের কাছে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে যায় আমরা কি আজ মানুষের অধিকার রক্ষায় ততটাই সাহসী? আমরা কি সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে পারি, যখন সেই সত্য উচ্চারণের মূল্য দিতে হয়? আমরা কি ক্ষমতার সামনে নত না হয়ে বিবেকের কথা বলতে পারি?

ইতিহাসের উত্তরাধিকার কেবল অতীতের গৌরব নয়; তা বর্তমানের দায়িত্বও। অলি আহাদের সংগ্রামী জীবন সেই দায়িত্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাঁর মতো মানুষেরা চলে যান, কিন্তু তাঁদের সাহস, ত্যাগ ও আদর্শ সময়ের বুক চিরে নতুন প্রজন্মের সামনে পথ দেখায়। ভাষার জন্য যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছিল মর্যাদা, অধিকার ও স্বাধীনতার সংগ্রাম। সেই ইতিহাসে অলি আহাদ এমন এক নাম, যাঁকে স্মরণ করলে মাথা নত হয় শ্রদ্ধায়, আর হৃদয়ের গভীরে জেগে ওঠে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ