সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠী

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

সৌদি আরবের ওপর ‘সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা’ জারির ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র রাজনৈতি গোষ্ঠী হুথি। গতকাল গোষ্ঠীটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন থেকে লোহিত সাগর কিংবা এই সাগরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে কোনো সৌদি জাহাজ বা নৌযান দেখামাত্র সেটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

তিনি আরও জানান, সৌদি আরব হুথি নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের সামুদ্রিক বন্দর এবং বিমানবন্দর অবরোধ করে রেখেছে। তার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে হুথি হাইকমান্ড।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা জারির পর সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুথি গোষ্ঠীর এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “লোহিত সাগরে নিজেদের জাহাজ-নৌযান রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে সবধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে রিয়াদ।”

উল্লেখ্য, সৌদি আরবকে নিজেদের এক নম্বর বা শীর্ষ পর্যায়ের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে হুথি গোষ্ঠী। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তারপর মাত্র এক বছরের মধ্যে  ২০১৫ সালে হুথি গোষ্ঠী রাজধানী সানা দখল করে। হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি সেনাবাহিনী। সে অভিযান এখনও চলছে।

বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে সেই প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। সৌদি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি না থাকলে পুরো ইয়েমেন হুথিরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।

তবে পরস্পরের প্রতি ব্যাপক বৈরী মনোভাব থাকা সত্ত্বেও ২০২২ সালে এক অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে যায় সৌদি আরব এবং হুথি গোষ্ঠী। তারপর থেকে উভয়পক্ষ মোটা দাগে যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও গত সপ্তাহে সানার বিমান বন্দরের রানওয়েতে হামলা এবং সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার সেই হামলার দায় স্বীকার করার পর থেকে ফের উত্তেজনা বেড়েছে সৌদি এবং হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে।

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ কৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সৌদি গিয়েছিল হুথি গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দল। অনুষ্ঠান শেষে গত ১৩ জুলাই তেহরান থেকে সানার উদ্দেশে রওনা দেয় তাদের বহনকারী উড়োজাহজ। কিন্তু সেটি সানা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমানবন্দরের রানওয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

ইয়েমেনে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করলেও এ ঘটনার জন্য সৌদিকেই দায়ী করেছে হুথি গোষ্ঠী।

সোমবার হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া বলেছেন, “সৌদি আরব প্রায় ১২ বছর ধরে আমাদের প্রিয় জনগণের ওপর একটি অন্যায় ও দমনমূলক অবরোধ চাপিয়ে রেখেছে; আমাদের সম্পদ লুণ্ঠন করছে এবং স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে আমাদের বন্দর ও বিমানবন্দরগুলোর ওপর একটি ব্যাপক অবরোধ আরোপ করেছে।”

“এ কারণে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে অপরাধী সৌদি শত্রুর বিরুদ্ধে সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি কারার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন বেপরোয়া শত্রু সৌদি যদি কোনো প্রকার বোকামিপূর্ণ কোনো কাজ করে, তাহলে চূড়ান্ত ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়া হবে।”

এদিকে ইয়াহিয়া সারিয়ার এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় হুথি গোষ্ঠীর জনসংযোগ বিভাগের উপপ্রধান নাসরুদ্দিন আমের বলেছেন, “নিষেধাজ্ঞা জারির অর্থ হলো— এখন থেকে বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে কোনো সৌদি জাহাজ চলাচল করলে সেটি লক্ষ্য করে হামলা করা হবে।”

উল্লেখ্য, বাব আল-মান্দাব প্রণালী হলো দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেন এবং হর্ন অব আফ্রিকা বা ‘আফ্রিকার শিং’ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) প্রশস্ত একটি জলপথ। এটি এডেন উপসাগরকে লোহিত সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে, যা সুয়েজ খালের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের সাথে যুক্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ