সাংবাদিক নয়ীম নওরোজ: এক প্রিয় মুখের বিদায়

শফিকুল আলম সেলিম
প্রকাশের সময় বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

কিছু মানুষের চলে যাওয়া শুধু শোকের নয়, হৃদয়ের গভীরে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করে। কিছু বিদায় মেনে নেওয়া যায় না সহজে, কিছু মৃত্যু মনের ভেতর এমনভাবে দাগ কাটে, যা দীর্ঘদিনেও মুছে যায় না। সাংবাদিক নয়ীম নওরোজের ইন্তেকালের খবরটি শোনার পর আমারও ঠিক তেমনই অনুভূতি হয়েছে। বুকের ভেতরটা চিনচিন করে উঠল, মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেলাম। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল, আমাদের প্রিয় মানুষটি আর নেই!

জাতীয় প্রেসক্লাবে কত দিন, কত বিকেল, কত আড্ডা আর আলোচনায় কেটেছে, তার হিসাব কি কখনো রাখা যায়? সাংবাদিকতার ব্যস্ততার মধ্যে জাতীয় প্রেসক্লাব ছিল আমাদের অনেকেরই একান্ত আপন জায়গা। সেখানে সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হতো, নানা বিষয়ে আলোচনা হতো, কখনো হাসি-আনন্দে সময় কাটত, আবার কখনো পেশাগত জীবনের নানা সংকট নিয়ে কথা হতো। সেই পরিচিত পরিবেশে নয়ীম নওরোজ ছিলেন এক প্রিয় মুখ, একজন আপন মানুষ। তাঁর সঙ্গে দেখা হলে মনে হতো, সাংবাদিকতার ব্যস্ততা আর পেশাগত প্রতিযোগিতার বাইরেও আন্তরিকতা ও ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব।

নয়ীম নওরোজের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তাঁর বন্ধুসুলভ আচরণ ও সহজভাবে মানুষকে আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা। মানুষের সঙ্গে মিশতে পারা, আন্তরিকভাবে কথা বলা এবং সম্পর্কের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখা এসব গুণ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছিল। আজকের সময়ে এমন সহজ-সরল, অমায়িক ও বন্ধুপ্রতিম মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। পদ-পদবি কিংবা পেশাগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সঙ্গে মানুষের যে সম্পর্ক, নয়ীম নওরোজের মধ্যে তার সুন্দর প্রকাশ দেখা যেত।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক নেতা নয়ীম নওরোজ দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাংবাদিক মহলে নেমে আসে শোকের ছায়া। তাঁর মরদেহ ইতিমধ্যে খুলনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে জানাজা শেষে বসুপাড়া কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। প্রিয়জনদের কাছে এ বিদায় নিঃসন্দেহে বেদনার, আর সহকর্মীদের কাছে এটি একজন আন্তরিক মানুষের হারিয়ে যাওয়া।

মৃত্যু জীবনের চিরন্তন সত্য। একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে এ কথা আমরা জানি। তবু পরিচিত কোনো মুখ যখন হঠাৎ স্মৃতির মানুষ হয়ে যায়, তখন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। মনে হয়, এই তো সেদিন দেখা হলো, কথা হলো, হাসিমুখে কুশল বিনিময় হলো। অথচ সেই মানুষটিই আজ আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে, শুধু স্মৃতির ভেতর বেঁচে আছেন।

প্রিয় নয়ীম ভাই, আপনার সঙ্গে আর দেখা হবে না, হবে না সেই আন্তরিক কথোপকথন। জাতীয় প্রেসক্লাবের চেনা পরিবেশে আপনার অনুপস্থিতি অনুভব করব আমরা। আপনার মতো মানুষের শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে আপনার সঙ্গে কাটানো সময়, আপনার আন্তরিকতা আর বন্ধুত্বের স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে।

আপনি চলে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর অসংখ্য স্মৃতি। মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার পদ-পদবিতে নয়, মানুষের হৃদয়ে সে কতটা জায়গা করে নিতে পেরেছে, তার মধ্যেই নিহিত। সেই বিচারে নয়ীম নওরোজ আমাদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ