জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর গণপরিবহনের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি মাত্র ১৭ পয়সা বাড়িয়েছে সরকার। অথচ নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার আগেই রাজধানীর বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে আগের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ভাড়া। কোথাও ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা, আবার ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা। অর্থাৎ সরকার যেখানে কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়িয়েছে, সেখানে স্বল্প দূরত্বের যাত্রায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক লাফে দ্বিগুণ টাকা গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে চালক ও সহকারীরা বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ যাত্রীদের। তবে নতুন ভাড়া নির্ধারণের প্রজ্ঞাপন জারির আগেই এভাবে বাড়তি ভাড়া আদায়ের পক্ষে কোনো সরকারি কাগজ দেখাতে পারেননি তাঁরা। মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্টপেজ ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়।
সাভার থেকে টেকনিক্যাল পর্যন্ত নিয়মিত যাতায়াত করেন ফারজানা আহমেদ। তিনি বলেন, আগে এ পথে ২০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও এখন নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। ইসলামপুর যেতে আগে ৬০ টাকা লাগলেও এখন ৮০ টাকা দিতে হচ্ছে। গত দুই দিন ধরে তেলের দাম বাড়ার কথা বলে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
বলিয়াপুর থেকে কোরিয়ার টেকনিক্যাল মোড়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী মো. আশফাক রহমান বলেন, আগে ১০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও এখন ২০ টাকা নেওয়া হয়েছে। চালকেরা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এভাবে ভাড়া বেড়ে যাওয়া বড় চাপ।
যাত্রীদের অভিযোগের হিসাবেও ভাড়া বৃদ্ধির মাত্রাটি স্পষ্ট। ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা হলে ভাড়া বেড়েছে ১০০ শতাংশ। ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা হলে বেড়েছে ৫০ শতাংশ। আর ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা হলে বৃদ্ধি ৩৩ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ সরকারের ঘোষিত ১৭ পয়সা কিলোমিটারপ্রতি বৃদ্ধির সঙ্গে মাঠপর্যায়ে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া বাড়তি ভাড়ার ব্যবধান অনেক ক্ষেত্রেই বড়।
এর মধ্যে সরকার নতুন ভাড়া নির্ধারণ করেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা হয়েছে। মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৫৯ পয়সা। দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা। অর্থাৎ সব ক্ষেত্রেই বৃদ্ধির হার কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা।
বাসভাড়া সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিআরটিএ কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। বাস মালিকেরা দাবি করেছিলেন অন্তত ৪০ পয়সা। পরে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে ১৭ পয়সা বৃদ্ধির হার নির্ধারিত হয়।
সরকারি নির্ধারিত হারের বাইরে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে সংশ্লিষ্ট বাসের রুট পারমিট বাতিল করা হবে।
তবে যাত্রীদের প্রশ্ন, সরকার যেখানে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে হিসাব করে কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়িয়েছে, সেখানে কোনো কোনো রুটে ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা বা ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা নেওয়ার সুযোগ কীভাবে তৈরি হচ্ছে? নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর এই বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর নজরদারি কতটা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।