মৃত্যুর পর আপনার গুগল ও অ্যাপল অ্যাকাউন্টের কী হবে, জেনে নিন আগেই

শফিকুল আলম সেলিম
প্রকাশের সময় বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

মৃত্যুর পরও অনলাইনে থেকে যেতে পারে ব্যক্তিগত ছবি, ইমেইল, নথি ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য। কিন্তু অ্যাকাউন্টের মালিক মারা গেলে এসব তথ্যের কী হবে, পরিবারের সদস্যরা সেগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন কি না কিংবা অ্যাকাউন্ট কখন মুছে যাবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও আগে থেকে নেওয়া পদক্ষেপের ওপর। গুগল ও অ্যাপল, দুটি প্রতিষ্ঠানই ব্যবহারকারীর মৃত্যুর পর অ্যাকাউন্ট ও তথ্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ রেখেছে। তবে সুবিধা দুটির নিয়মে রয়েছে বেশ কিছু পার্থক্য।

গুগল অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে যা করতে হবে

গুগলের ‘ইনঅ্যাকটিভ অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার’ সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা আগে থেকেই ঠিক করতে পারেন, দীর্ঘদিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করলে কী হবে। নির্দিষ্ট সময় অ্যাকাউন্ট ইনঅ্যাক্টিভ থাকার পর অ্যাকাউন্টের তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া যায়। চাইলে জিমেইলের বার্তা, যোগাযোগের তথ্য, ইউটিউব চ্যানেলসহ নির্বাচিত সকল তথ্যসহ সম্পূর্ণ ডিজিটাল অস্তিত্ব সর্বোচ্চ ১০ জন বিশ্বস্ত ব্যক্তির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা যায়।

এ সুবিধা চালু করতে ব্যবহারকারীকে ইনঅ্যাক্টিভ থাকার সময়সীমা এবং তথ্য গ্রহণকারীদের নির্ধারণ করতে হবে। তবে আগে থেকে কোনও নির্দেশনা না থাকলে গুগল অন্তত দুই বছর ইনঅ্যাক্টিভ থাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট মুছে দিতে পারে। অ্যাকাউন্টের মালিক মারা গেলে পরিবারের সদস্যরা গুগলের সঙ্গে যোগাযোগ করে অ্যাকাউন্ট বন্ধের অনুরোধ জানাতে পারেন। তবে এ প্রক্রিয়ায় অ্যাকাউন্টের সংরক্ষিত তথ্য পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

অ্যাপল অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে যা করতে হবে

অ্যাপল ব্যবহারকারীরা ‘লিগ্যাসি কনট্যাক্ট’ সুবিধার মাধ্যমে মৃত্যুর পর নিজেদের অ্যাকাউন্টের নির্দিষ্ট তথ্য ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচজনকে মনোনীত করতে পারেন। অ্যাপল অ্যাকাউন্টের সেটিংস থেকে এই ব্যক্তিদের নির্বাচন করা যায়। মনোনীত প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একটি অ্যাকসেস কী তৈরি হয়, যা মৃত্যুর পর তথ্য পাওয়ার আবেদনে কাজে লাগে।

মনোনীত ব্যক্তিকে অ্যাকাউন্টের তথ্য পেতে অ্যাকসেস কী ও ব্যবহারকারীর মৃত্যুসনদ জমা দিতে হবে। অনুমোদন পেলে তিনি ছবি, বার্তা, নোট, ফাইল ও ডিভাইসের ব্যাকআপসহ নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে কেনা গান, সিনেমা ও বইয়ের মতো ডিজিটাল কনটেন্টে প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে না। তথ্য সংগ্রহের জন্য তিন বছর সময় দেওয়া হয়, এরপর অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হয়।

আগে থেকে লিগ্যাসি কনট্যাক্ট নির্ধারণ করা না থাকলে অ্যাপলের ইনঅ্যাক্টিভ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে সময়সীমা তুলনামূলক কম। আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট এক বছর ইনঅ্যাক্টিভ থাকলে সতর্কবার্তা পাঠানো হয় এবং পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্যের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জীবিত থাকতেই অ্যাকাউন্টের উত্তরাধিকারসংক্রান্ত সেটিংস ঠিক করে রাখা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ