মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টানটান উত্তেজনার এক ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে দুদলই একটি করে বড় জয় পাওয়ায় তৃতীয় ম্যাচটি অঘোষিত ফাইনালে রূপ নিয়েছিল। সেই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে শেষ বল পর্যন্ত রোমাঞ্চ ছড়িয়ে শেষ হাসি হাসল টাইগাররাই। এই জয়ের ফলে দীর্ঘ ১১ বছর পর আবারও পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল লাল-সবুজরা।
রোববার মিরপুরে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে ওপেনিংয়ে ১০৫ রানের দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। তানজিদ এক প্রান্ত আগলে রেখে খেললেও অন্য প্রান্তে সাইফ (৩৬), নাজমুল হোসেন শান্ত (২৭) ও লিটন দাস (৪১) উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তবে তানজিদ ক্যারিয়ারের প্রথম শতক তুলে নিয়ে ১০৭ বলে ১০৭ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে তাওহীদ হৃদয়ের ৪৪ বলে ৪৮ রানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ তিনশর কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়। পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রউফ ৫২ রানে ৩টি উইকেট নেন।
২৯১ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। বাংলাদেশি পেসার তাসকিন আহমেদের তোপে মাত্র ৩ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় সফরকারীরা। সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত ও অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ান দ্রুত বিদায় নিলে ৮২ রানেই ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। তবে ষষ্ঠ উইকেটে সালমান আগা ও সাদ মাকসুদ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সালমান আগা একাই লড়াই চালিয়ে গিয়ে ৯৮ বলে ১০৬ রানের একটি অনবদ্য সেঞ্চুরি করে ম্যাচটি পাকিস্তানের নাগালে নিয়ে এসেছিলেন।

ম্যাচের শেষ বলে রিশাদের বলে স্টাম্পড হয়ে ফিরলেন শাহিন আফ্রিদি। ছবি: বিসিবি
ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তা চরমে পৌঁছায়। তাসকিনের বলে সালমান আউট হওয়ার পর শাহিন আফ্রিদি দ্রুত কিছু বাউন্ডারি মেরে ব্যবধান কমিয়ে আনেন। শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের করা সেই ওভারের প্রতিটি বল ছিল শ্বাসরুদ্ধকর। পঞ্চম বলে একটি এলবিডব্লিউ রিভিউয়ের নাটকীয়তায় ডট বল আদায় করে নেয় বাংলাদেশ।
শেষ বলে স্টাম্পিং হয়ে শাহিন আফ্রিদি ফিরলে ২৭৯ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। ১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার তাসকিন আহমেদ। এছাড়া মুস্তাফিজুর ৩টি এবং নাহিদ রানা ২টি উইকেট নেন।
ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তানজিদ হাসান তামিম। পুরো সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তানজিদ ও তরুণ পেসার নাহিদ রানা যৌথভাবে সিরিজ সেরার পুরস্কার লাভ করেন।