বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। আর মন বলে ওঠে- খিচুড়ি খিচুড়ি। আসলে বৃষ্টির সাথে খিচুড়ির যেন এক অনন্য সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু কথা হচ্ছে কেন এমনটা হয়? বৃষ্টি হলেই কেন খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে?
মুখরোচক এই খাবারটিরও আবার রয়েছে নানা ধরন। কেউবা ভালোবাসে পোলাওর চাল আর মুগ ডালের ভুনা খিচুড়ি। কারো আবার পছন্দের তালিকায় আছে ঝোলসমেত পাতলা ল্যাটকা খিচুড়ি। অনেকে আবার সবজি বা মাংস মিশিয়েও খাবারটি তৈরি করেন।
মূলত খিচুড়ি ছিল বাউলদের খাবার। পথে ঘাঁটে গান করে ঘুরে বেড়াতেন বাউলরা। সে সময় বাড়ি বাড়ি ঘুরে গান শোনাতে গেলে লোকজন তাঁদের চাল-ডাল দিত। সেগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে বাউলেরা রান্না করে খেতেন। পরবর্তীতে যেটার নাম হলো খিচুড়ি।
কখনও কখনও গাছে থাকা কোনো সবজি বা আলু কেটে মিশিয়ে দিতেন খিচুড়িতে। তৈরি হয়ে যেত সবজি খিচুড়ি। ঝড় বৃষ্টির মধ্যে সহজে আর কম সময়ে রান্নার জন্য খিচুড়ি ছিল উপযুক্ত পদ। বহুবছরের সেই ঐতিহ্যই এক সময় পরিণত হয় অলিখিত নিয়মে।
ব্যস্ত নগরজীবনে বৃষ্টির দিন সাময়িক বিরতি এনে দেয়, আর সেই অবসরে সহজ ও আরামদায়ক খাবার হিসেবে খিচুড়ি হয়ে ওঠে প্রথম পছন্দ। পুষ্টিবিদদের মতে, বৃষ্টির দিনে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শরীর গরম খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয়। খিচুড়ি নরম ও সহজপাচ্য হওয়ায় এটি শরীরের জন্য উপযোগী। পাশাপাশি এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়।
বৃষ্টি হলেই শৈশবের স্মৃতিচারণ মনে করেন অনেকে। মায়ের সেই রান্না করা খিচুড়ি ভেসে ওঠে মনের মধ্যে। তাই, বৃষ্টি হলেই ইচ্ছে করে খিচুড়ি খেতে। তাই খিচুড়ি খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। হজমে অনেকটা সময় নেওয়ায় এটি এই সময়ের উপযুক্ত খাবার।