আইফেল টাওয়ারের সামনে হাস্যোজ্জ্বল ছবি। ক্যাপশনে লেখা, ‘প্রিয়ন্তী ইন প্যারিস! হা হা হা।’ ৯ সেপ্টেম্বর ছবিগুলো ফেসবুকে পোস্ট করেন অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী ঊর্বী। তবে তাঁর ইউরোপ সফর প্যারিসেই সীমাবদ্ধ ছিল না। জীবনের প্রথম ইউরোপযাত্রায় প্রায় ৪৫ দিনে ঘুরেছেন পাঁচটির বেশি দেশ। কখনো নেদারল্যান্ডসের ছবির মতো গ্রাম, কখনো বেলজিয়ামের ঐতিহাসিক স্থাপনা, কখনো স্বামীর সঙ্গে হেঁটে দেখেছেন জার্মানির শহর। সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি সৌন্দর্য দেখে মনে হয়েছে, পৃথিবীর এক টুকরো স্বর্গে এসে পড়েছেন!
প্রিয়ন্তী এখন নেদারল্যান্ডসে, আগামী শুক্রবার দেশে ফিরবেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে হোয়াটসঅ্যাপে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এবারের ইউরোপ সফর আমার জন্য একেবারেই অন্য রকম। প্রথমবার ইউরোপে এসে প্রায় ৪৫ দিনে পাঁচ-ছয়টি দেশ ঘুরেছি। আমার পরিবারও এখানে থাকে। তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানো, নতুন জায়গা দেখা এবং নিজের মতো কিছুদিন থাকার ইচ্ছা থেকেই এত লম্বা সফর।’
তাঁর ইউরোপযাত্রা শুরু হয় নেদারল্যান্ডস দিয়ে। আমস্টারডাম, জ্যানসে স্কানস, রটারডাম, দ্য হেগ, গিথুর্ন, হোক ভ্যান হল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি জায়গা ঘুরেছেন।
সমুদ্র বরাবরই টানে প্রিয়ন্তীকে। তাই হোক ভ্যান হল্যান্ডে গিয়ে ছুটেছেন সমুদ্রের কাছে। তিনি বলেন, ‘সেখানে সমুদ্র আর আকাশের মেলবন্ধন দারুণ লেগেছে। আমি সমুদ্র খুব ভালোবাসি, সুযোগ পেলেই তার কাছে চলে যাই।’ নেদারল্যান্ডস থেকে বেলজিয়ামে যান প্রিয়ন্তী। ব্রাসেলস ও গেন্ট ঘুরে মুগ্ধ হয়েছেন দেশটির স্থাপত্যে। দেখেছেন ব্রাসেলসের প্যালেস অব জাস্টিসসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা। ভালো লেগেছে গেন্টের শান্ত পরিবেশও। চেখে দেখেছেন বেলজিয়ান চকলেট ও ওয়াফল।
প্রিয়ন্তী বলেন, ‘কোনো দেশে গেলে শুধু দর্শনীয় জায়গা দেখি না, স্থানীয় খাবারের স্বাদও নিতে চাই। কারণ, খাবারের মধ্য দিয়েও একটি দেশের সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানা যায়।’
এরপর তাঁর গন্তব্য ছিল ফ্রান্স। প্যারিস ও ডিজনিল্যান্ড প্যারিস ঘুরেছেন। আইফেল টাওয়ারের সামনে ছবি তোলার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ছিল বিশেষ। হাসতে হাসতে বললেন, ‘আইফেল টাওয়ারকে কি আর এড়িয়ে যাওয়া যায়! প্যারিস যেন নিজের মতো করেই ডাকছিল। ভাষাগত কিছুটা সমস্যা হলেও শহরটির শিল্প, স্থাপত্য ও পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করেছে।’ ডিজনিল্যান্ডে কাটানো দিনটিকে মনে হয়েছে আনন্দময় ও জাদুকরি।
জার্মানির বার্লিন, ব্ল্যাক ফরেস্ট, লান্ডাউসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় ঘুরেছেন প্রিয়ন্তী। বার্লিনে স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় হেঁটেছেন। পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে শহর দেখা ও গল্প করার মুহূর্তগুলো তাঁর কাছে সফরের অন্যতম সুন্দর স্মৃতি। প্রিয়ন্তী বলেন, ‘অনেক হেঁটেছি, শহর দেখেছি, একসঙ্গে সময় কাটিয়েছি। ব্ল্যাক ফরেস্টের প্রকৃতিও মনে রাখার মতো।’

প্রিয়ন্তীর প্রথম বিদেশভ্রমণ ২০১৬ সালে, ভারতে। তখন তিনি দশম শ্রেণির ছাত্রী। সেটিই ছিল তাঁর প্রথম বিমানভ্রমণ। তিনি বলেন, ‘তখন মনে হতো, বিদেশের সব দেশই হয়তো ভারতের মতো। পরে যত জায়গায় গিয়েছি, বুঝেছি প্রতিটি দেশের আলাদা সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও জীবনযাপন আছে।’
এবারের সফরে নতুন জায়গা দেখার পাশাপাশি স্থানীয় খাবার খেয়েছেন, কেনাকাটা করেছেন, প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকেছেন এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। তবে সবচেয়ে আনন্দের ছিল প্রিয় মানুষটির সঙ্গ। প্রিয়ন্তী বলেন, ‘ইউরোপ যত সুন্দরই হোক, সফরের সবচেয়ে প্রিয় অংশ ছিল ভ্রমণসঙ্গীর পাশে থাকা। নতুন জায়গাগুলো চিনেছি, আর তাঁর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো হয়ে উঠেছে আরও সুন্দর স্মৃতি।’
দেশের বাইরে থাকলেও নিজের কাজের খোঁজ রাখছেন অভিনেত্রী। ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত নাটক ‘দাদি ভয়ংকর’। নাটকটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে। প্রিয়ন্তী নিজেও সে নাটকের খবর দিয়েছেন ফেসবুকে।
সামনে প্রিয়ন্তীকে দেখা যাবে ‘বকুলের বুকে রক্তকরবী’ সিনেমায়। গানের ভিডিও ও বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করে পরিচিতি পাওয়া শাহরিয়ার পলকের প্রথম চলচ্চিত্র এটি। কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মীর রাব্বী ও প্রিয়ন্তী। ছবিতে ‘বকুল’ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে।