১২ অক্টোবর বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস আজ

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস আজ: সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসায় কমবে বাতের যন্ত্রণা

শফিকুল আলম সেলিম
প্রকাশের সময় রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

প্রতি বছর ১২ অক্টোবর বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস পালিত হয়। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো বাত ও অস্থিসন্ধির রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য উন্নত চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা। আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কলামটি সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী করে, শিরোনাম ও উপশিরোনাম ছাড়াই লেখা হলো।
১২ অক্টোবর বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস। বাত ও অস্থিসন্ধির রোগে আক্রান্ত মানুষের কষ্ট, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯৬ সালে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউরোপীয় জোট অব অ্যাসোসিয়েশনস ফর রিউম্যাটোলজির (ইউলার) তথ্য অনুযায়ী, বাত ও পেশি-অস্থিসংক্রান্ত রোগের দুই শতাধিক ধরন রয়েছে। এসব রোগের অনেকগুলো দীর্ঘস্থায়ী এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কর্মক্ষমতা ও সামাজিক অংশগ্রহণে গভীর প্রভাব ফেলে।

আমাদের দেশে বাতের ব্যথা নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, বয়স বাড়লে শরীরে ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। কারও ধারণা, বাতের ব্যথা হলে তা আর কখনো ভালো হয় না। আবার অনেকে দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে কিংবা বিভিন্ন ধরনের মালিশ ব্যবহার করে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এসব ধারণা ও অভ্যাসের কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত করতে দেরি হয়। অথচ বাতের সব ব্যথা এক রকম নয়, সব বাতের কারণও এক নয়। রোগের ধরন বুঝে চিকিৎসা গ্রহণ করাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
আর্থ্রাইটিস বা অস্থিসন্ধির প্রদাহ এমন একটি শারীরিক সমস্যা, যা মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজকর্ম পর্যন্ত ব্যাহত করতে পারে। সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা ছাড়তে কষ্ট হওয়া, হাতের আঙুল ভাঁজ করতে না পারা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামায় ব্যথা, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না পারা কিংবা হাঁটতে গিয়ে হাঁটুতে যন্ত্রণা অনুভব করা এসব অভিজ্ঞতা অনেকের কাছে পরিচিত। কারও ক্ষেত্রে ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়ে, আবার কারও ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই অস্থিসন্ধি ফুলে যায় এবং নড়াচড়া কঠিন হয়ে পড়ে।

অস্থিসন্ধি হলো দুটি হাড়ের সংযোগস্থল, যা শরীরকে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে। অস্থিসন্ধির চারপাশে থাকা তরুণাস্থি, লিগামেন্ট, টেন্ডন, পেশি ও অন্যান্য টিস্যু স্বাভাবিক চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব অঙ্গের কোনো অংশে ক্ষয়, প্রদাহ বা আঘাতজনিত সমস্যা দেখা দিলে ব্যথা ও চলাচলে অসুবিধা হতে পারে। তবে অস্থিসন্ধির প্রতিটি ব্যথাই আর্থ্রাইটিস নয়। পেশির টান, টেন্ডনের প্রদাহ, আঘাত, স্নায়ুর সমস্যা কিংবা অন্যান্য রোগ থেকেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই ব্যথার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
আর্থ্রাইটিসের পরিচিত দুটি ধরন হলো অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস। অস্টিওআর্থ্রাইটিসে অস্থিসন্ধির তরুণাস্থি ও আশপাশের টিস্যুতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন ঘটে। বয়স বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ওজন, পুরোনো আঘাত এবং অস্থিসন্ধির ওপর দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চাপ পড়া এ রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। হাঁটু, কোমর, মেরুদণ্ড এবং হাতের আঙুলের অস্থিসন্ধিতে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। হাঁটাচলা বা কাজের সময় ব্যথা বাড়তে পারে, অস্থিসন্ধি শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং স্বাভাবিক চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী স্বয়ংপ্রতিরোধী রোগ। এ ক্ষেত্রে শরীরের রোগপ্রতিরোধব্যবস্থা ভুলবশত নিজের অস্থিসন্ধির আবরণে আক্রমণ করে। ফলে প্রদাহ, ব্যথা, ফোলা ও শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। সাধারণত হাত, কবজি ও পায়ের ছোট অস্থিসন্ধি আক্রান্ত হয়। অনেক সময় শরীরের ডান ও বাঁ দিকের একই ধরনের অস্থিসন্ধিতে প্রায় একসঙ্গে সমস্যা দেখা দেয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দীর্ঘ সময় আঙুল শক্ত হয়ে থাকা, মুঠি করতে অসুবিধা, ক্লান্তি এবং শরীরের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়াও এ রোগের লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসা না হলে অস্থিসন্ধি ও আশপাশের টিস্যুর স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগের লক্ষণগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। অস্থিসন্ধিতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ফোলা, স্পর্শ করলে গরম অনুভূত হওয়া, সকালে শক্ত হয়ে থাকা কিংবা নড়াচড়ায় ক্রমাগত অসুবিধা দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে হাত-পায়ের একাধিক অস্থিসন্ধিতে একই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে কিংবা ব্যথার সঙ্গে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, জ্বর বা ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
অনেকেই ব্যথা কমে গেলে মনে করেন, রোগটি সেরে গেছে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী বাতের ক্ষেত্রে উপসর্গ কখনো কমতে পারে, আবার কখনো বেড়ে যেতে পারে। সাময়িক স্বস্তি পাওয়া মানেই রোগের মূল কারণ দূর হয়ে যাওয়া নয়। বিশেষ করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো রোগে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করা গেলে অস্থিসন্ধির ক্ষতি কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁদের বড় একটি অংশের পুনর্বাসন ও সহায়ক চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
আর্থ্রাইটিসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এ রোগের প্রভাব শুধু শারীরিক ব্যথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। দীর্ঘদিন ব্যথা নিয়ে চলাফেরা করতে হলে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও চাপ পড়ে। কর্মজীবী ব্যক্তির কাজে অনুপস্থিতি বাড়তে পারে, গৃহিণীদের রান্না বা ঘরের কাজ করতে অসুবিধা হতে পারে, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রবীণদের ক্ষেত্রে হাঁটাচলার অসুবিধা তাঁদের অন্যের ওপর নির্ভরশীল করে তুলতে পারে। ফলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে।

বাংলাদেশের মতো দেশে এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসা নিয়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন। অনেক মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর সুযোগ পান না। কেউ আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসা পিছিয়ে দেন, কেউ আবার ব্যথাকে বয়সজনিত সমস্যা মনে করে সহ্য করতে থাকেন। শহরের বাইরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোও অনেকের জন্য কঠিন। এসব কারণে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হতে পারে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা পরিচিতজনের পরামর্শে ওষুধ সেবন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অস্থিসন্ধির ব্যথা হলে চিকিৎসক রোগীর বয়স, উপসর্গ, পারিবারিক ইতিহাস, পূর্ববর্তী আঘাত এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করেন। প্রয়োজন অনুসারে রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে কিংবা অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস শনাক্ত করতে প্রদাহের মাত্রা নির্ণয়ের পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডির পরীক্ষা সহায়ক হতে পারে। তবে কোনো একটি পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে সব ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় করা যায় না। রোগীর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

চিকিৎসার ক্ষেত্রেও রোগের ধরন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয়। কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে ব্যথা ও প্রদাহ কমানোর ওষুধ প্রয়োজন হয়। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে রোগের অগ্রগতি ধীর করার জন্য বিশেষ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এসব ওষুধ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে গ্রহণ করা জরুরি। প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপি, কর্মসহায়ক চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন কাজের ধরনে পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়। অস্থিসন্ধি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু ব্যথা কমানোর চেষ্টা না করে রোগ নিয়ন্ত্রণের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপনের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান পরিহার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। অতিরিক্ত ওজন হাঁটু ও কোমরের অস্থিসন্ধিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। তাই ওজন স্বাভাবিক সীমায় রাখার চেষ্টা করা উচিত। তবে ব্যথা থাকলে নিজের ইচ্ছায় কঠিন ব্যায়াম শুরু করা ঠিক নয়। হাঁটা, সাঁতার কিংবা অস্থিসন্ধিতে কম চাপ পড়ে এমন ব্যায়াম অনেকের জন্য উপযোগী হতে পারে। কোন ব্যায়াম কতটা করা যাবে, তা রোগের ধরন ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা, ভারী জিনিস তোলার সময় অসতর্কতা এবং হাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এমন কাজও অস্থিসন্ধি ও পেশির সমস্যা বাড়াতে পারে। কম্পিউটারে কাজ করার সময় বিরতি নেওয়া, সঠিক ভঙ্গিতে বসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের ধরন পরিবর্তন করা ভালো অভ্যাস। খেলাধুলার ক্ষেত্রেও আঘাত এড়াতে সঠিক কৌশল ও উপযুক্ত সরঞ্জাম ব্যবহার করা জরুরি।
টেনিস এলবো এমন একটি সমস্যা, যা কনুইয়ের বাইরের অংশে ব্যথা সৃষ্টি করে। টেনিস খেলোয়াড়দের মধ্যে এটি পরিচিত হলেও শুধু টেনিস খেলার কারণেই এ সমস্যা হয় না। বারবার কবজি ও হাতের পেশি ব্যবহার করা, ভারী জিনিস তোলা কিংবা একই ধরনের কাজ দীর্ঘ সময় ধরে করার ফলেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে হাতের মুঠির শক্তি কমে যেতে পারে এবং কাপ ধরা, দরজার হাতল ঘোরানো কিংবা কোনো বস্তু তোলার সময় ব্যথা হতে পারে। এটি মূলত টেন্ডন-সংক্রান্ত সমস্যা; তাই একে সব ধরনের আর্থ্রাইটিসের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। বিশ্রাম, কাজের ধরন পরিবর্তন এবং প্রয়োজন অনুসারে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি ব্যথা হলেই সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। দীর্ঘদিন অস্থিসন্ধি নাড়াচাড়া না করলে পেশির শক্তি কমে যেতে পারে এবং অস্থিসন্ধি আরও শক্ত হয়ে যেতে পারে। আবার প্রদাহের সময় অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। তাই বিশ্রাম ও শারীরিক সক্রিয়তার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ মেনে চলা সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসের গুরুত্ব এখানেই যে, এটি শুধু একটি রোগ সম্পর্কে আলোচনা করার দিন নয়; বরং আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাস্তব সমস্যা তুলে ধরারও সুযোগ। তাঁদের প্রয়োজন সময়মতো রোগ নির্ণয়, সাশ্রয়ী চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পুনর্বাসনসেবা এবং পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা। কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিসন্ধির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সীমাবদ্ধতা বুঝে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া উচিত। ব্যথার কারণে কেউ ধীরগতিতে চললে বা কোনো কাজ করতে সময় নিলে তাঁকে অবহেলা না করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ বিষয়ে মানুষের জ্ঞান বাড়ানো সম্ভব। গণমাধ্যমে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচার, চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণে উৎসাহ দেওয়া এবং গ্রাম পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে অস্থিসন্ধির রোগ শনাক্তকরণের ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বুঝতে হবে, দীর্ঘস্থায়ী বাতের চিকিৎসায় ধৈর্য ও নিয়মিত অনুসরণ জরুরি। নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ করা কিংবা অন্যের ব্যবস্থাপত্র অনুসরণ করা উচিত নয়।

এ বছর ২০২৬ সালে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসের প্রচারাভিযানের প্রতিপাদ্য ‘আকাঙ্ক্ষা পূরণ’ যার মূল ভাবনা হলো, বাত ও পেশি-অস্থিসংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও যেন তাঁদের স্বপ্ন, লক্ষ্য ও সম্ভাবনা পূরণের সুযোগ পান। এজন্য প্রয়োজন রোগ সম্পর্কে সচেতনতা, দ্রুত রোগ নির্ণয়, উন্নত চিকিৎসায় প্রবেশাধিকার এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি।
সবশেষে বলা যায়, আর্থ্রাইটিস এমন একটি স্বাস্থ্যসমস্যা, যার প্রভাব অনেক সময় নীরবে মানুষের জীবনকে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। কিন্তু সচেতনতা, সঠিক সময়ে রোগ শনাক্তকরণ, উপযুক্ত চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এর অনেক উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অস্থিসন্ধির ব্যথাকে অবহেলা না করে তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করতে পরিবার, সমাজ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক বাতের ব্যথা নিয়ে নীরবে কষ্ট নয়, প্রয়োজন সচেতনতা, সঠিক চিকিৎসা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী
shafiqualalam@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ