সীমান্ত পেরিয়ে লড়াইয়ের সংহতি: ছাত্রফ্রন্টের সম্মেলনে নেহা বোরার অভিনন্দন বার্তা

বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার অধিকার, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সংগ্রাম ও সমাজ বদলের লড়াইয়ে ভারত-বাংলাদেশের ছাত্রসমাজকে এক কাতারে দাঁড়ানোর আহ্বান

শফিকুল আলম সেলিম
প্রকাশের সময় শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বামপন্থী ছাত্র সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (এসএসএফ) ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলনে অভিনন্দন জানিয়ে ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন ভারতের বামপন্থী ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (AISA আইসা) সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের পক্ষ থেকে ভিডিও বার্তাটি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁর এই বার্তা কেবল একটি ছাত্র সংগঠনের সম্মেলন উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা নয়; বরং শিক্ষা, গণতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী অবস্থান এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় ভারত ও বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের পারস্পরিক সংহতির একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রকাশ।
ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে আন্তর্জাতিক সংহতির গুরুত্ব নতুন নয়। উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছাত্রসমাজ বারবার অন্যায়, বৈষম্য, স্বৈরশাসন ও অধিকারহরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ঔপনিবেশিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দাবিতে সংগ্রাম বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদের ভূমিকা সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করেছে। নেহা বোরার অভিনন্দন বার্তাকে সেই দীর্ঘ সংগ্রামী ঐতিহ্যের আলোতেই মূল্যায়ন করতে হবে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে অভিনন্দন জানিয়ে নেহা বোরা সংগঠনটির সার্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রদায়িকতা উৎখাত এবং সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই অবস্থানের তাৎপর্য এখানেই যে, শিক্ষা ও গণতন্ত্রের প্রশ্নকে তিনি বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় হিসেবে দেখেননি। বরং একটি বৈষম্যহীন, যুক্তিবাদী ও মানবিক সমাজ নির্মাণের বৃহত্তর লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
শিক্ষা কোনো পণ্য নয় এই বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। অর্থনৈতিক সামর্থ্য, পারিবারিক পরিচয়, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা সামাজিক অবস্থানের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিই সার্বজনীন শিক্ষার মূল কথা। বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার অর্থ কেবল বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রশ্ন করার স্বাধীনতা, যুক্তিবোধের বিকাশ, কুসংস্কার থেকে মুক্তি এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতা। যে শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখায়, সেই শিক্ষাই গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে পারে।
বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশেই শিক্ষার ব্যয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগের বৈষম্য, বেকারত্ব এবং শিক্ষিত তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ছাত্ররাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। এই বাস্তবতায় নেহা বোরার বার্তায় বিজ্ঞানভিত্তিক ও সার্বজনীন শিক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তবে এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু স্লোগান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পর্যাপ্ত সরকারি বিনিয়োগ, মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণার সুযোগ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য কার্যকর সহায়তা। আদর্শ তখনই বাস্তব অর্থ পায়, যখন তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
ভিডিও বার্তাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান। ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে সমাজে অবিশ্বাস, বিদ্বেষ ও বৈষম্যের বিস্তার ঘটে। এর সবচেয়ে বড় শিকার হন সাধারণ মানুষ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং তরুণ প্রজন্ম। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ক্ষত গভীর। তাই সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সংগ্রামকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরোধিতা হিসেবে দেখলে চলবে না; একে মানুষের সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে।
একটি গণতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেক মানুষের ধর্ম পালন কিংবা ধর্ম পালন না করার স্বাধীনতা থাকা জরুরি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করা নয়। ছাত্রসমাজের দায়িত্বও কেবল শ্রেণিকক্ষের দাবি আদায়ে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, নারী ও প্রান্তিক মানুষের প্রতি বৈষম্য এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে সচেতন অবস্থান নেওয়া গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির অপরিহার্য অংশ।
নেহা বোরার রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়ার কথা। সেই বছরের জুলাই-আগস্টে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ক্রমে বৃহত্তর সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে পরিণত হয়। আন্দোলনে দমন-পীড়ন, প্রাণহানি ও ব্যাপক জনক্ষোভের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নাটকীয় রূপ নেয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। এই ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের বিবরণে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। এর ভেতরে ছিল তরুণদের ক্ষোভ, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির দাবি, বৈষম্য নিয়ে হতাশা এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। একই সঙ্গে আন্দোলনের সময় মানুষের মৃত্যু, আহত হওয়া, গ্রেপ্তার, নিপীড়ন এবং পরিবারগুলোর দীর্ঘস্থায়ী বেদনা এই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব অভিজ্ঞতা স্মরণ করার অর্থ কোনো পক্ষের প্রতি অন্ধ আনুগত্য নয়; বরং মানুষের জীবন, মর্যাদা ও অধিকারকে রাজনীতির কেন্দ্রে রাখার অঙ্গীকার।
বাংলাদেশের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়ার বিষয়টি তাই তাৎপর্যপূর্ণ। একটি দেশের তরুণদের প্রতিবাদ অন্য দেশের তরুণদেরও নিজেদের বাস্তবতা নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। তবে অনুপ্রেরণা আর অনুকরণ এক বিষয় নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতা ভারতের থেকে আলাদা। ফলে দুই দেশের ছাত্র আন্দোলনের পথও অভিন্ন হতে পারে না। কিন্তু গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বৈষম্যবিরোধিতা এবং শিক্ষার অধিকারের মতো মৌলিক প্রশ্নে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সংহতি উভয় দেশের তরুণদের আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করতে পারে।
ভারতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, নাগরিক অধিকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং বিরোধী মতের পরিসর নিয়ে যে বিতর্ক ও আন্দোলন রয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে নেহা বোরাকে তরুণ প্রতিবাদী নেতৃত্বের একজন হিসেবে দেখা হয়। মোদী সরকারের নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক শক্তির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তবে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে হলে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য, নীতি, ঘটনা এবং স্বাধীন তথ্য-প্রমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন। গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থানের অর্থ শুধু নিজের পছন্দের রাজনৈতিক শক্তিকে সমর্থন করা নয়; বরং ভিন্নমত, সমালোচনা এবং নাগরিক স্বাধীনতার অধিকারকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া।
এখানেই সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও আইসার মতো ছাত্র সংগঠনের সংহতির সম্ভাবনা নিহিত। দুই সংগঠনের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মসূচিতে মিল থাকলেও প্রত্যেকের নিজস্ব সাংগঠনিক বাস্তবতা রয়েছে। নেহা বোরার অভিনন্দন বার্তা সেই স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রেখেই অভিন্ন দাবিগুলো সামনে আনার সুযোগ তৈরি করেছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বৈষম্যহীনতা, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংলাপ জোরদার হলে তা ভবিষ্যৎ আন্দোলনের জন্য অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জন্যও এই বার্তা একটি দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সার্বজনীন শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি তখনই মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে, যখন সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যা, শিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, বেকারত্ব, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রশ্নে ধারাবাহিক ভূমিকা রাখবে। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থানও হতে হবে সর্বজনীন কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ নয়, বরং সব ধরনের ধর্মীয় ও পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রতিবাদ। সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্নকে বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করতে হলে শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, নিম্নবিত্ত পরিবার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রামের সঙ্গেও ছাত্র আন্দোলনের সম্পর্ক দৃঢ় করা প্রয়োজন।
রাজনীতির প্রতি তরুণদের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চাও অপরিহার্য। যে সংগঠন সমাজে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে, তার নিজের কর্মকাণ্ডেও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা দরকার। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যেমন জরুরি, তেমনি ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা, তথ্যের যথার্থতা এবং মানুষের নিরাপত্তার প্রতিও দায়বদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ।
নেহা বোরার ভিডিও বার্তার তাৎপর্য শেষ পর্যন্ত একটি মৌলিক প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায় দক্ষিণ এশিয়ার তরুণেরা কেমন ভবিষ্যৎ চান? এমন এক ভবিষ্যৎ, যেখানে শিক্ষা অর্থের বিনিময়ে কেনা বিশেষাধিকার হয়ে থাকবে, নাকি প্রত্যেক শিশুর অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে? যেখানে ধর্ম ও পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষ বিভক্ত হবে, নাকি পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সমাজ গড়ে উঠবে? যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকবে, নাকি রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে জবাবদিহির আওতায় আসবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কোনো একটি ভিডিও বার্তা দিতে পারে না। উত্তর তৈরি করতে হবে মানুষের সংগঠিত উদ্যোগ, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। কিন্তু সীমান্ত পেরিয়ে উচ্চারিত সংহতির ভাষা সেই পথচলায় সাহস জোগাতে পারে। বাংলাদেশের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা থেকে ভারতের ছাত্রদের অনুপ্রেরণা পাওয়ার কথা এবং ভারতের একজন ছাত্রনেত্রীর কাছ থেকে বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠনের প্রতি অভিনন্দন এই দুইয়ের মিলিত তাৎপর্য এখানেই।
নেহা বোরার অভিনন্দন বার্তা তাই শুধু সম্মেলনের শুভেচ্ছা নয়; এটি শিক্ষার অধিকার, সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমাজ, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা এবং বৈষম্যহীন ভবিষ্যতের প্রশ্নে পারস্পরিক সংহতির একটি রাজনৈতিক বার্তা। ইতিহাস বলে, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কখনো শুধু একটি দেশের সীমানায় আবদ্ধ থাকে না। সেই আকাঙ্ক্ষা যখন যুক্তি, মানবিকতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকারে শক্তিশালী হয়, তখনই তা নতুন প্রজন্মকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিতে পারে। ভারত ও বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের কাছে এই সংহতির সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা স্লোগানের আবেগকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপান্তরিত করা এবং মানুষের মুক্তি, মর্যাদা ও সমান অধিকারের সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ