পাহাড়ে সম্প্রীতি রক্ষায় নানা পদক্ষেপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ম্যারাথন টুর্নামেন্ট ও সম্প্রীতি সভাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা পাহাড়ে বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন কালে এসব চিত্র দেখা গেছে।

আজ ৯ আগস্ট পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে পাহাড়ে তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি এলাকায় যাতে কেউ জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানান।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, এখানে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সম্প্রীতি বজায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সম্প্রীতি বজায় রাখতে নিয়মিত সম্প্রীতি সভার আয়োজন করা হয়। যাতে ছোটখাটো ভুল বুঝাবুঝি থেকে বড় কোন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। সম্প্রীতি সভায় সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসনের সকল স্টেকহোল্ডারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক সহাবস্থান এবং সম্প্রীতি রক্ষার জন্যও কাজ করা হয়।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বাসস’কে বলেন, খাগড়াছড়ি জেলায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। এখানে সম্প্রীতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, এখানে একটা পর্যটন শিল্প আছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় এবং সামাজিক উৎসবের মাধ্যমে এখানকার বাসিন্দাদের সম্প্রীতি বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে পাঠশালা সিএইচটি রিসার্চ সেলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ কাউছার উল্লাহ বাসস’কে বলেন, সম্প্রীতি বাড়াতে সেনাবাহিনী কাজ করছে। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে সম্প্রীতি আরও বহুগুণে বৃদ্ধি করার জন্য সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সকল জনগোষ্ঠীর জন্য মেলবন্ধন বাড়াতে হবে। সর্বোপরি শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বাসস’কে বলেন, এখানকার বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমাদের সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখানে সম্প্রীতি রক্ষায় সেনাবাহিনী পার্বত্য এলাকায় জনগণের মাঝে বিভিন্ন সময় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ঔষধ সামগ্রী বিতরণ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখছে। তারা বলেন, যেসব দুর্গম অঞ্চলে মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত সেসব স্থানে সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম সশরীরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ করে থাকে।

দুর্গম অঞ্চল হতে মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসতেও সেনাবাহিনী সহযোগিতা করে। মেডিকেল টিমের পাশাপাশি টহল কার্যক্রমের সময়ও সেনাবাহিনী চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে। -বাসস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ