যেন কিছুতেই ক্ষুধা মিটছিল না কানাডার। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় পাওয়ার লক্ষ্যে নেমে কাতারকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশটি। পুরো আসর থেকে ছিটকে দেওয়ার মতো চোট এবং দুই লাল কার্ডের পাগলাটে ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিলো কানাডা। তাদের ইতিহাসগড়া জয়ের পথে জোনাথান ডেভিড দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করেছেন।
কানাডার বড় জয়ে ডেভিডের হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি একবার করে স্কোরশিটে নাম তোলেন কাইল লারিন ও নাথান সালিবা। অন্য গোলটি ছিল কাতারি ফুটবলারের আত্মঘাতী। পুরো ম্যাচে ৭৮ শতাংশ পজেশন নিয়ে কানাডা ৩২টি শট নেয়, এর মধ্যে ৯টি লক্ষ্যে ছিল। বিপরীতে ভঙ্গুর কাতার ২ শটের একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
গত সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কারণে টরন্টোতে কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত থাকতে থাকতে পারেননি দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। আজ (শুক্রবার) বিশ্বকাপে দেশটির প্রথম জয় পাওয়ার ম্যাচে তিনি মাঠে উপস্থিত ছিলেন। তাকে সাক্ষী রেখে ১৬তম মিনিটে টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সাইল লারিন। জোনাথন ডেভিডের ভলি শট কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা প্রতিহত করলে লারিন ফিরতি শটে গোল করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইসমায়েল কোনেয়েকে ভয়ঙ্কর ট্যাকল করেন আসিম মাদিবো। যে কারণে তিনি লাল কার্ড দেখলে কাতার ৯ জনের দলে পরিণত হয়। চোট পাওয়া কোনেয়ের বাম পা অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সতীর্থরাও। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে তুলে নেওয়া হয়। এই মিডফিল্ডারের বদলি নেমে নাথান সালিবা ৬৪তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন। এরপর উঁচিয়ে ধরেন কোনেয়ের ৮ নম্বর জার্সি।
৭৫তম মিনিটে কাতারের মোহাম্মদ মানাই দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজের জালেই বল পাঠিয়ে আত্মঘাতী গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-০। অতিরিক্ত সময়ে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ডেভিড। এর মাধ্যমে এই বিশ্বকাপে এক ম্যাচে তিন গোল করা খেলোয়াড়দের তালিকায় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে নাম লেখান তিনি।