পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাতটা (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৭টা) থেকে শুরু হয়েছে। রাজ্যের ৮ জেলায় ১৪২টি আসনে একযোগে চলছে ভোটগ্রহণ, যা সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে।
শেষ দফার ভোটে ৮ জেলায় বুথের মোট সংখ্যা ৪১ হাজার একটি। এর মধ্যে ৪ হাজার ৮৩৩ বুথকে ‘অতি স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আধা সামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ)-এর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দুই হাজার ৩০০ কোম্পানির বেশি বাহিনী রয়েছে এই দফায়। পাশাপাশি প্রায় ৩৯ হাজার রাজ্য পুলিশ কর্মীও নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি বাহিনী রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়। বিভিন্ন জেলা পুলিশ মিলিয়ে মোট ৫১২ কোম্পানি। উত্তর চব্বিশপরগনায় আসন সংখ্যা ৩৩টি। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৪১৩ কোম্পানি (আসন সংখ্যা ৩১টি), হুগলিতে ৩২৩ (আসন সংখ্যা ১৮টি), নদিয়ায় ২৮৭ (আসন সংখ্যা ১৭টি), কলকাতায় ২৭৪ (আসন সংখ্যা ১১টি), পূর্ব বর্ধমানে ২৬৩ (আসন ১৬), হাওড়ায় ২৫৮ কোম্পানি (আসন ১৬) বাহিনী রয়েছে।
শেষ পর্যায়ের ভোটযুদ্ধে ময়দানে রয়েছেন এক হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে পুরুষ প্রার্থী এক হাজার ২২৮, নারী ২২০ জন।
এ দফর নির্বাচনে বেশ কয়েকটি হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র নজরে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর। যেমন ভবানীপুর; পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উভয়েই এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। আরেকটি হাই প্রোফাইল আসন উত্তর চব্বিশপরগনার পানিহাটি। এ আসনে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন আরজি কর হাসপাতালে নিহত চিকিৎসকের মা।
এই পর্বে যে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা লড়ছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, ব্রাত্য বসু, জাভেদ খান, শশী পাঁজা, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বেচারাম মান্না। বিজেপির হয়ে লড়াইয়ে আছেন তাপস রায়, স্বপন দাশগুপ্ত, অর্জুন সিং, সজল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায়।
সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দীপ্সিতা ধরের দিকে নজর রয়েছে। নওশাদ সিদ্দিকী আইএসএফের হয়ে ময়দানে রয়েছেন।
২৯৪ আসনবিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২ কেন্দ্রে ভোট নেয়া হয়। সেদিনের মতো শেষ দফাতেও ভোট নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা কমিশনের কাছে চ্যালেঞ্জের। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন না সরকার পরিবর্তন হবে, জানা যাবে ৪ মে।
ভোটের ফলাফল প্রকাশ করা হবে ৪ মে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারে তৃণমূল প্রত্যাবর্তন করবে না-কি অন্য কোনো দল ক্ষমতায় আসবে— সেদিনই জানা যাবে।