বাংলাদেশে শিক্ষা, চাকরি ও পেশাগত জীবনে প্রবেশের প্রতিটি ধাপে যেন নতুন নতুন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় মানুষকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য পরীক্ষা, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য একাধিক ধাপের পরীক্ষা, আবার এসব পরীক্ষায় ভালো ফল করতে কোচিংয়ের ওপর নির্ভরতা সব মিলিয়ে একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে: যোগ্যতা প্রমাণের জন্য এত পরীক্ষা কেন? আর এই ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে কি সত্যিই কোচিং অপরিহার্য?
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক। সীমিত আসন, বিপুলসংখ্যক আবেদনকারী এবং যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তা থেকেই পরীক্ষা ও মূল্যায়নব্যবস্থার সৃষ্টি। কিন্তু প্রতিযোগিতার নামে যখন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময়, অর্থ ও মানসিক শক্তি ব্যয় করতে হয়, তখন সেই ব্যবস্থার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে, একজন প্রার্থীর প্রকৃত জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও কাজের সক্ষমতা যাচাইয়ের পরিবর্তে পরীক্ষায় নির্দিষ্ট ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কৌশলই যখন সাফল্যের প্রধান শর্ত হয়ে দাঁড়ায়, তখন পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সবার পারিবারিক সামর্থ্য এক নয়, শিক্ষার সুযোগ এক নয়, আবার শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির পরিবেশও সমান নয়। ফলে একই প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও সবাই সমান অবস্থান থেকে শুরু করতে পারে না।
ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেই বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট। দেশের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যায়। আসন সীমিত, আবেদনকারী বেশি এ বাস্তবতায় বাছাইয়ের কোনো পদ্ধতি প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি শিশুর মেধা ও সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষাই কি একমাত্র পথ? আর যে শিশুরা তুলনামূলক ভালো বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়নি, তাদের সঙ্গে সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একই মানদণ্ডে বিচার করা কতটা ন্যায্য?
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণেও এই বৈষম্যের প্রশ্নটি উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভর্তি পরীক্ষা ও লটারির মধ্যকার বিতর্কের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানের বৈষম্য দূর করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শিক্ষার সুযোগে অসমতা বজায় রেখে শুধু ভর্তি পদ্ধতি পরিবর্তন করলেই সবার জন্য ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা কঠিন।
একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের শুরুতেই যদি তাকে কোচিং, মডেল টেস্ট, প্রশ্নব্যাংক ও প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তুতির চাপে ফেলা হয়, তাহলে তার স্বাভাবিক শৈশব, খেলাধুলা ও সৃজনশীল বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অথচ প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু ভালো ফল করা নয়; বরং ভাষা, গণিত, যুক্তিবোধ, কৌতূহল, নৈতিকতা ও সামাজিক দক্ষতার বিকাশ ঘটানো। এসব দক্ষতা একটি ভর্তি পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টায় পুরোপুরি পরিমাপ করা সম্ভব নয়।
এখানে কোচিং-বাণিজ্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কোচিং নিজে সব সময় নেতিবাচক নয়। কোনো শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট বিষয়ে দুর্বল হলে অতিরিক্ত সহায়তা তার কাজে আসতে পারে। কিন্তু যখন পরীক্ষায় ভালো করার জন্য কোচিং প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে ওঠে, তখন শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে নতুন ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়। আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবার একাধিক কোচিং, ব্যক্তিগত শিক্ষক ও উন্নত শিক্ষাসামগ্রী কিনতে পারে। অন্যদিকে, নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীকে নিজের চেষ্টায় কিংবা সীমিত সুযোগের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে হয়।
ফলে প্রতিযোগিতাটি অনেক সময় শুধু মেধার থাকে না; এর সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনৈতিক সামর্থ্য, পারিবারিক সহায়তা এবং প্রস্তুতির সুযোগ। যে ব্যবস্থায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে পারা একজন প্রার্থী সুবিধা পায়, সেখানে কেবল পরীক্ষার ফল দিয়ে প্রকৃত মেধা ও যোগ্যতার পার্থক্য নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে কোচিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমানোর দায়িত্ব শুধু অভিভাবকের নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদেরও।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে পাঠদান যদি যথাযথ হয়, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর দুর্বলতা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয় এবং পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যায়ন করা হয়, তাহলে বাইরের কোচিংয়ের প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে কমে আসতে পারে। কিন্তু বিদ্যালয়ে শেখার ঘাটতি রেখে ভর্তি বা বাছাই পরীক্ষায় সাফল্যের প্রত্যাশা তৈরি করা হলে কোচিং ব্যবসার প্রসারের সুযোগ থেকেই যায়।
চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়ায়ও একই ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি চাকরির জন্য বিপুলসংখ্যক প্রার্থী আবেদন করেন, অথচ পদ থাকে তুলনামূলক কম। ফলে লিখিত পরীক্ষা, ব্যবহারিক পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা কিংবা অন্যান্য যাচাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করার প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের প্রকাশিত তথ্যেও দেখা যায়, বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে বাছাই, লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগে একাধিক ধাপ থাকা সব সময় অযৌক্তিক নয়। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, হিসাবরক্ষক কিংবা প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাজের ধরন এক নয়। প্রতিটি পেশায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতাও আলাদা। তাই সব পদের জন্য একই ধরনের পরীক্ষা কিংবা একই মূল্যায়নপদ্ধতি অনুসরণ করার বদলে সংশ্লিষ্ট কাজের উপযোগী যাচাইব্যবস্থা গড়ে তোলা বেশি যুক্তিসংগত।
সমস্যা তৈরি হয় যখন নিয়োগের প্রস্তুতি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়, পরীক্ষার সিলেবাস ও পদ্ধতিতে অনিশ্চয়তা থাকে, অথবা নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হতে অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় লাগে। একজন চাকরিপ্রার্থী বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আয়মূলক কাজের সুযোগ হারাতে পারেন। পরিবারের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ে, ব্যক্তিগত সঞ্চয় কমে এবং মানসিক চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারের আর্থিক সহায়তা সীমিত, তাঁদের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া কঠিন।
এ ক্ষেত্রে আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসে একজন প্রার্থীকে চাকরির উপযোগী প্রমাণ করার জন্য কতবার পরীক্ষা দিতে হবে? প্রার্থী যদি স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় ডিগ্রি অর্জন করেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান রাখেন এবং কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করেন, তাহলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তাঁর এসব যোগ্যতা কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে? শুধু মুখস্থনির্ভর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দক্ষতা দিয়ে কি কর্মক্ষেত্রে তাঁর বাস্তব সক্ষমতা নির্ধারণ করা যায়?
চাকরির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা প্রার্থীর বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা যাচাই করতে পারে। কিন্তু যোগাযোগের দক্ষতা, সমস্যা সমাধান, দলগতভাবে কাজ করা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে জ্ঞান প্রয়োগের ক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজন হতে পারে কাজভিত্তিক মূল্যায়ন, ব্যবহারিক পরীক্ষা কিংবা কাঠামোবদ্ধ সাক্ষাৎকার। পদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব পদ্ধতি ব্যবহার করা গেলে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষার সংখ্যা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অবশ্য পরীক্ষা কমানো মানেই যাচাই-বাছাই দুর্বল করা নয়। বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত, অপ্রয়োজনীয় ধাপ বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয় মূল্যায়নকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করা। নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার মানদণ্ড আগে থেকে স্পষ্ট করা, পরীক্ষার ফল প্রকাশে নিয়মিত সময়সীমা অনুসরণ, আবেদন ও মূল্যায়নের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা রাখা জরুরি। এতে প্রার্থীদের অনিশ্চয়তা কমবে এবং নিয়োগব্যবস্থার ওপর আস্থা বাড়বে।
ভর্তি ও নিয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন কিংবা উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন প্রযোজ্য। কোনো একটি পর্যায়ে যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজন থাকলেও পরবর্তী প্রতিটি পর্যায়ে একই জ্ঞান আবার পরীক্ষা করার যৌক্তিকতা সব সময় থাকে না। একজন শিক্ষার্থী বা পেশাজীবীর অর্জিত যোগ্যতা, পূর্ববর্তী ফলাফল এবং বাস্তব দক্ষতার স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তবে যেখানে নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য কিংবা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সঙ্গে মানুষের জীবন ও অধিকার জড়িত, সেখানে যথাযথ দক্ষতা যাচাই অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
এখানে নীতিনির্ধারকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মেধার মূল্যায়ন এবং সুযোগের সমতা কীভাবে একসঙ্গে নিশ্চিত করা যায়। কারণ, পরীক্ষা বাদ দিলেই বৈষম্য দূর হবে না; আবার পরীক্ষা বাড়ালেই যোগ্যতম ব্যক্তি নির্বাচিত হবেন, এমন নিশ্চয়তাও নেই। ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারি চালু করলে স্বচ্ছতা ও চাপ কমানোর কিছু সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানের বৈষম্য দূর না হলে সমস্যার মূল কারণ থেকে যাবে। একইভাবে চাকরিতে পরীক্ষা কমিয়ে শুধু সাক্ষাৎকারের ওপর নির্ভর করলে পক্ষপাত বা অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সুতরাং, সমাধান কোনো একটি পদ্ধতিকে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করে দেওয়ার মধ্যে নেই। বরং কোন পর্যায়ে কী ধরনের মূল্যায়ন প্রয়োজন, তা উদ্দেশ্য অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। বিদ্যালয়ে ভর্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ এবং চাকরিতে নিয়োগের উদ্দেশ্য এক নয়। তাই সবার জন্য একই ছাঁচে তৈরি ব্যবস্থা না রেখে প্রয়োজনভিত্তিক, বৈজ্ঞানিক ও ন্যায্য মূল্যায়নব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানের ব্যবধান কমানো, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান উন্নত করা, দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতির সমান সুযোগ তৈরি করা এবং চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সময়োপযোগী নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা এসব উদ্যোগ একসঙ্গে নিতে হবে। পাশাপাশি পরীক্ষার প্রশ্নপদ্ধতি এমন হতে হবে, যাতে মুখস্থবিদ্যার চেয়ে বোঝার ক্ষমতা, বিশ্লেষণ, সৃজনশীলতা ও বাস্তব দক্ষতা বেশি গুরুত্ব পায়।
কোচিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমাতে হলে শিক্ষার মূল দায়িত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই যথাযথভাবে পালন করতে হবে। ভর্তি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে মূল্যায়নব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে একজন প্রার্থীকে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য বারবার অর্থ, সময় ও শ্রম ব্যয় করতে না হয়। তবে এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের তথ্য, ব্যয়, ফলাফল এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
সবশেষে প্রশ্নটি শুধু নিয়োগ, কোচিং কিংবা ভর্তি পরীক্ষার নয়; প্রশ্নটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানব্যবস্থার দর্শন নিয়ে। আমরা কি এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে যোগ্যতা প্রমাণের জন্য মানুষকে বারবার প্রতিযোগিতার গোলকধাঁধায় ঘুরতে হবে, নাকি এমন একটি ব্যবস্থা চাই, যেখানে প্রয়োজনীয় জায়গায় যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্যতার স্বীকৃতি দেওয়া হবে?
পরীক্ষা থাকবে, প্রতিযোগিতাও থাকবে। কিন্তু প্রতিযোগিতা যেন শিক্ষার বিকল্প না হয়, কোচিং যেন যোগ্যতার পূর্বশর্তে পরিণত না হয় এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া যেন কর্মসংস্থানের পথে অপ্রয়োজনীয় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। যোগ্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্য মানুষকে বারবার পরীক্ষার মুখে দাঁড় করানো নয়; বরং সঠিক মানুষকে সঠিক সুযোগ দেওয়া। এই উপলব্ধি থেকেই ভর্তি, কোচিং ও নিয়োগব্যবস্থার সংস্কার শুরু হওয়া প্রয়োজন।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী