শনিবারের ধরপাকড়কে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছে সিজেপি। আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “গতকাল জরুরি অবস্থার সীমাও পেরিয়ে গিয়েছে বিজেপি সরকার। স্বাধীন ভারতে কখনও এইরকম পরিস্থিতি হয়নি।”
জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি সিজেপি-র নিশানায় নরেন্দ্র মোদীও! প্রধানমন্ত্রীকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে আক্রমণ করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বের অভিযোগ, দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। দেশের নাগরিকদের সঙ্গেই যুদ্ধে জড়াচ্ছে তারা। পুলিশি ধরপাকড় সত্ত্বেও রাস্তা না-ছাড়ার বার্তাও দিয়েছেন সিজেপি নেতৃত্ব।
থানা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর রবিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন সিজেপি-র যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস। সঙ্গে ছিলেন সিজেপি-র লিগ্যাল টিমের প্রধান রত্না সিংহ। শনিবার পুলিশ কী ভাবে তাঁদের আটক করেছিল, তার বর্ণনা দেন। সিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য এটিকে আটক না-বলে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
আশুতোষ অভিযোগ করেন, সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সৌরভকে আটক করার সময় অমানবিকতার পরিচয় দেয় পুলিশ। দীপকে-র ঠাকুমার মৃত্যুর খবরও অসংবেদনশীলতার সঙ্গে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সৌরভ দাবি করেন, আটক করার পর তাঁদের তিনজনকে তিনটি আলাদা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। ফোন কেড়ে নেয় পুলিশ।
এমনকি আইনজীবীদের সঙ্গেও তাঁদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সৌরভ-আশুতোষদের। সৌরভের আশঙ্কা, পুলিশ তাঁদের ফোন পরীক্ষা করে দেখতে পারে এবং সেখানে এমন কিছু তথ্য ঢুকিয়ে দিতে পারে, যা পরে তাঁদের হেনস্থা করতে কাজে লাগাবে পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে সৌরভের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ধরতে জুতো পরে গুরুদ্বারে ঢুকেছিল পুলিশ। এতে শিখদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে সিজেপি।
শনিবারের ধরপাকড়কে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছে সিজেপি। আশুতোষ বলেন, “গতকাল জরুরি অবস্থার সীমাও পেরিয়ে গিয়েছে বিজেপি সরকার। স্বাধীন ভারতে কখনও এইরকম পরিস্থিতি হয়নি।” দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতে বিজেপি এত তৎপর কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
দিল্লি পুলিশকে এবং কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আশুতোষ বলেন, “আমাদের লড়াই সবে শুরু হল।” শনিবারের পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লজ্জিত হওয়া উচিত বলেও জানান তিনি।
তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা দেশদ্রোহিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিজেপি নেতা সৌরভ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ‘আসল দেশদ্রোহী’ বলে কটাক্ষ করেন। উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য গোটা দেশে সাড়ে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। একই সঙ্গে সৌরভের দাবি, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের পতন আসন্ন।