শুরুতেই হতাশা। একেবারে সহজ একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন লিওনেল মেসি। চারদিকে হতাশার গুনগুনানি। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক পেনাল্টি মিসের পর ভেঙে পড়েছিলেন খানিক সময়ের জন্য। তারপর ঘুরে দাঁড়ালেন এবং জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়লেন তিনি। দুই ম্যাচে ৫ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে বড় ধাপ ফেললেন ৩৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
অষ্টম মিনিটে মেসি শট নেওয়ার জন্য এগিয়ে যান। গোল করতে পারলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন। কিন্তু মেসি প্রমাণ করলেন যে তিনিও একজন মানুষ! তিনি শটটি পোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে মেরে দিলেন। গোলরক্ষক ঠিক দিক অনুমান করতে পেরেছিলেন, কিন্তু তাকে কোনো সেভ করতে হয়নি।
মেসির সামনে দারুণ সুযোগ ছিল ২১ মিনিটে! তিনি কাট-ইন করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন, কিন্তু আলাবা পেছন থেকে বলটি ছুঁয়ে দেন। তাতে বল শ্লাগারের গায়ে লেগে বিপদমুক্ত হয়। হাইড্রেশন ব্রেকের আগে হতাশা আর্জেন্টিনা শিবিরে।
৩৮ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বাম দিক থেকে আর্জেন্টিনার আক্রমণের সূত্রপাত করেন মেসি নিজেই এবং পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে বলটিকে নিখুঁত শটে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে জালে জড়িয়ে ফিনিশিং করেন। বিশ্বকাপের রেকর্ড ১৭তম গোলে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে তো গেলেনই, দলকেও এগিয়ে দিলেন। ওই এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
মেসি শেষ দিকে করেছেন আরেকটি গোল। ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে বাম দিক থেকে আলভারেস বল নিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আর্জেন্টিনা এক বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাটাকে ওঠে। তার নেওয়া শটটি শ্লাগার ঠেকিয়ে দিলেও বল চলে যায় মেসির পায়ে, যদিও তখন বেশ কয়েকজন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার গোললাইন আগলে দাঁড়িয়েছিলেন।