গত জুন মাসের শেষ দিকে ৮ দিন ধরে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে ইউরোপের ওপর দিয়ে, তা কেড়ে নিয়েছে মহাদেশটির ১০ হাজারেরও অধিক মানুষের প্রাণ। ইউরোপভিত্তিক সংস্থা ইউরোমোমো গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।
মৃতদের অধিকাংশই ‘হিট-স্ট্রোক’ বা গরমজনিত কারণে হৃদযন্ত্র-শ্বাসতন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন উল্লেখ করে ইউরোমোমার অন্যতম কর্মকর্তা এবং ডেনমার্কের স্ট্যাটেন্স সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড রয়টার্সকে বলেন, “তাদের মৃত্যু হয়েছে তাপপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট প্রচণ্ড গরমের কারণে। এর আর কোনো ব্যাখ্যা নেই। মৃতের এই সংখ্যা সত্যিই অনেক বেশি এবং বছরের এমন সময়ে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত সংখ্যক মৃত্যু মোটেও স্বাভাবিক নয়।”
ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কোন দেশে কতজনের মৃত্যু হয়েছে— সে সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি ইউরোমোমোর প্রতিবেদনে, তবে বলা হয়েছে— এই মৃতদের একটি বড় অংশই ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামের।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিষয়ক অঙ্গসংস্থা ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের (ইসিডিপিসি) রেকর্ড থেকে জানা গেছে, ইউরোপে এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে করোনা মহামারির সময়। ২০২০ সালের মে-জুন মাসে মহামারির চূড়ান্ত সময়ে এক সপ্তাহে ১ হাজারি ৬৫০ জনের অধিক মৃত্যু দেখেছিল ইউরোপ।
ইউরোপের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জুনের এই তাপপ্রবাহের মানুষঘটিত কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন দায়ী এবং সামনের বছরগুলোতে বার বার এমন তাপপ্রবাহ ফিরে আসার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।