চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগেই চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প এবং কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প তিনটি উদ্বোধন করবেন এবং এর আগেই নগরবাসী এসব প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে শুরু করবে।
সভায় বেলায়েত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে বন্দরনগরীকে একটি নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। এ জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বলেন, চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিগগিরই তিনি প্রকল্পগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করবেন বলেও জানান।
দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বেলায়েত হোসেন বলেন, তিনি নিজে দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন না এবং কর্মকর্তাদেরও এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পিলারসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত জটিলতা অনেক সময় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা দলের পদমর্যাদা বিবেচনা না করে যে কেউ সরকারি জমি, খাল বা নালা দখল করলে তার বিরুদ্ধে উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
গণমাধ্যমের সঙ্গে সঠিক তথ্য আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সংস্থা সম্পর্কে যেন কোনো ভুল ধারণা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য প্রকৃত তথ্য সরবরাহে কোনো ধরনের কার্পণ্য করা যাবে না।
নগর পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণে সিডিএ অনুমোদিত নকশা অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে বেলায়েত হোসেন বলেন, কয়েকটি ভবন নিয়ম মেনে নির্মিত হলেও একটি ভবন যদি নিয়ম লঙ্ঘন করে, তাহলে পুরো এলাকার সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হয়। তাই নকশাবহির্ভূত নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
এ সময় সিডিএ কর্মকর্তারা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং টিমওয়ার্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আরও পরিকল্পিত, আধুনিক ও নান্দনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিডিএর সার্বক্ষণিক সদস্য মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নুরী, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এর আগে সকালে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান শাহ সুফি হযরত আমানত শাহ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।