জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

শফিকুল আলম সেলিম
প্রকাশের সময় শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে ১২টি অংশীদার সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটির (জিইএফ) স্মল গ্র্যান্টস প্রোগ্রামের (এসজিপি) আওতায় নির্বাচিত এসব প্রকল্প পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি নারী, তরুণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইউএনডিপি বাংলাদেশের ঢাকা কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

ইউএনডিপি বাস্তবায়িত জিইএফ স্মল গ্র্যান্টস প্রোগ্রাম মূলত নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীভিত্তিক সংগঠনগুলোকে পরিবেশগত সমস্যা মোকাবিলায় উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ দেয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তা করা হয়। এবারের নির্বাচিত ১২টি প্রকল্পেও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো নির্বাচিত হয়েছে দেশের পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঞ্চলে। এর মধ্যে রয়েছে সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূলীয় এলাকা, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং বরেন্দ্র অঞ্চল। এসব এলাকার জীববৈচিত্র্য, বনভূমি, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে এসব এলাকার বহু মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল।

নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর আওতায় ম্যানগ্রোভ বন ও জলাভূমি পুনরুদ্ধার, সামুদ্রিক কচ্ছপ সংরক্ষণ, হাতির আবাসস্থল সুরক্ষা, কমিউনিটিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চক্রাকার অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, সম্পদ-সাশ্রয়ী জলজ চাষ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো এসব প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি, জীবিকার অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশবান্ধব জীবিকা ও স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী সমাধান সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে একই ধারায় এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি সোনালিনী দয়ারত্নে বলেন, এই অংশীদারত্বের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তুতন্ত্রের উন্নয়ন এবং এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনমান বৃদ্ধির ওপর। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও স্থানীয় জনগোষ্ঠী যাতে দীর্ঘমেয়াদে সুফল ধরে রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম আসাদুজ্জামান পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মালিকানা ও যৌথ দায়িত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করা এবং নারী, তরুণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘস্থায়ী সুযোগ সৃষ্টি সম্ভব।

সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন, উদ্ভাবন, জবাবদিহি ও টেকসই ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য ইউএনডিপি এবং অংশীদার সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে সফল উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি, স্থানীয় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং অর্জিত পরিবেশগত সুফল ধরে রাখার ওপর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ