২০১৪ সালের পর আবারও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে প্রথমবারের মত নকআউট রাউন্ডে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামে বসনিয়া এন্ড হার্জেগোভিনা। কাতারের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্যে নেমে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বসনিয়া। কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হয়েছে তারা।
বিশ্বকাপের নতুন নিয়ম অনুযায়ী সেরা ৮টি সেরা তৃতীয় দল রাউন্ড অফ ৩২- এ জায়গা করে নিবে। সেক্ষেত্রে বলাই যায় বসনিয়া বেশ শক্তভাবেই প্রথমবার নকআউট রাউন্ডে ওঠার দৌড়ে এগিয়ে রইলো।
ম্যাচের ৯০ সেকেন্ডের মাথায় ভালো একটি সুযোগ পায় বসনিয়া। দেমিরোভিচের বাম পায়ের দূরপাল্লার শট বাম দিকে ঝাপিয়ে পড়ে রুখে দেন কাতারি গোলরক্ষক।
১৬ মিনিটে আবারো সুযোগ পায় বসনিয়া এবার মিডফিল্ডার বেসিচের শট গোলবারের সামান্য উপর দিয়ে চলে গেলে গোল বঞ্চিত হয় ইউরোপের মুসলিম দেশটি।
বল নিজেদের দখলে নিয়েও যখন গোল পাচ্ছিল না বসনিয়ানরা। তখনই হাইড্রেশন ব্রেকের পর ২৯ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন বসনিয়ার ১৮ বছর বয়সী তরুণ আলাবেগোভিচ। ডি বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলটি করেন এই তরুণ ফুটবলার।
আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ বেশ জমে ওঠে। ৩৯ মিনিটে আবারো গোলের সুযোগ পায় বসনিয়া। এবার জাতীয় দলের ১৫০ ম্যাচ খেলতে নামা জেকো ডিবক্সের ভেতর থেকে বা পায়ের জোড়ালো শট নেন কিন্তু গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও ক্রস বারে প্রতিহত হয় তার শট।
দুই গোল খেয়ে ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কাতার। বসনিয়ার ডিফেন্সের উপর চাপ সৃষ্টি করে গোলও আদায় করে নেয় তারা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে এডমিলসন জুনিয়রের বাড়ানো ক্রসে বল পায়ে ছোয়া লাগিয়ে জালে জড়ান আল হাইদস।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরো কিছু গোলের চেষ্টা করলেও দুই দলের কেউই আর গোল পায়নি। ফলে ২-১ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বসনিয়া।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে কাতার। তবে বল দখলে এগিয়ে থেকে কাতারিদের হতাশাগ্রস্ত করে তোলে বসনিয়ানরা। ৬০ মিনিটে কাতারের আফিফের নেওয়া দূর পাল্লার শট গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৬৩ মিনিটে জেকোর পরিবর্তে মাঠে নামেন মাহমিচ।
ম্যাচের শেষ দিকে কাতার চেষ্টা করলেও গোলের দেখা আর পায়নি। ফলে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে নকআউট রাউন্ডে এক লা দিয়ে রাখলো বসনিয়া। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে কোন জয় ছাড়াই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল কাতার।