সাভারের স্থানীয় একটি মাদরাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময় বলাৎকারের ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর এ অভিযোগ উঠেছে মাদরাসাটির শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষার্থীদর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে মানসিক ট্রমা ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছে। এদিকে শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী শিশুটি সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসার মক্তব বিভাগের ২য় শ্রেণির ছাত্র।
অভিযুক্তরা হলেন- শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন (২৯), হাফেজ সাব্বির (২৭), হাফেজ কামরুজ্জামান (২৮) ও ক্বারী রফিকুল ইসলাম (৫৬) ও জিয়া ইবনে কাসেম (৪৮)। অভিযুক্ত মাদরাসার শিক্ষার্থীরা হলেন- রাফি (২০), সায়েম (২২), আবু সাঈদ (১৫), মোহম্মদ বিন মুক্তার (১৫), হাসান বিন মোস্তফা (১৬)।
সবশেষে মাদরাসার মক্তব বিভাগের সহকারী শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন ওই শিশুকে বলাৎকারের ঘটনা জানতে পারে। পরে ৪ জুলাই রাতে তিনিও ওই শিশুকে বলাৎকার করেন। এ সময় শিশুটিকে গলাটিপে মারধর করে এবং কাউকে জানালে মাদরাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া শিক্ষক হাফেজ কামরুজ্জামান, ক্বারী রফিকুল ইসলাম ও জিয়া ইবনে কাসেম ঘটনাটি পরিবারসহ কাউকে না জানানোর জন্য মারধরসহ বিভিন্ন হুমকি দিতেন।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, আমি সাভারের একটি পোশাক কারখানায় স্টোর কিপারের কাজ করি এবং আমার স্ত্রী গৃহিণী। ছেলেকে আরবি শিক্ষার জন্য মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসার মক্তব বিভাগের ২য় শ্রেণিতে ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু সেখানে প্রায় ৬ মাস আমার ছেলেকে মারধর ও শিক্ষক-ছাত্ররা মিলে বলাৎকার করেছে। এখন আমার ছেলের বায়ু পথে ক্ষত হয়ে গেছে এবং নির্যাতনের কারণে ট্রমায় ভুগছে। প্রায় রাতেই চিৎকার দিয়ে উঠে বলে ‘আমার গলা ছেড়ে দাও’। চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করেছি। ওর চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু আমি সামান্য চাকরি করি, তাই ছেলের ঠিকমতো চিকিৎসাও করাতে পারছি না।