বান্দরবানের আলীকদম থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এসেছেন হারুনুর রশীদ। তার দেড়বছরের সন্তান হাম ওয়ার্ডে ১১দিন ধরে চিকিৎসাধীন। চোখেমুখে উৎকণ্ঠা নিয়ে মেডিকেলের নিচতলায় হাম ওয়ার্ডের সামনে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। ভেতরে তার সন্তান ও তার স্ত্রী।
পেশায় রাজমিস্ত্রী হারুন বলেন, হামে আক্রান্ত অনেক শিশুর অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। এখানে অক্সিজেন পাওয়া যায় না। কালকে অক্সিজেনের অভাবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওয়ার্ডের এক বেডে ৩ থেকে ৪ শিশুকে রাখা হয়েছে। এখান থেকেও রোগ ছড়াতে পারে। ওষুধও বাইরের থেকে কিনতে হচ্ছে। আমার ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকার শুধু ওষুধ কিনতে হয়েছে। তবুও কিছু করার নেই।
তার পাশেই ছিলেন নোয়াখালীর বাসিন্দা নয়ন। তার দুই শিশু হাম ওয়ার্ডে ভর্তি। তিনি বলেন, এখানে (হাম ওয়ার্ড) ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না। উপরে শিশু ওয়ার্ডে ডাক্তার-নার্সেরা আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করে। এখানে তেমন সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।
দেশজুড়ে বাড়তে থাকা হামের প্রকোপের মধ্যে চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। শয্যা, পিআইসিইউ ও হাই ফ্লো নজল ক্যানুলার ঘাটতির মধ্যেই চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ওষুধ কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচের চাপ পড়ছে রোগীর স্বজনদের ওপর।
চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের জন্য বিভাগটিতে ২০টি পিআইসিইউ শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি শয্যা হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত রাখা হয়েছে। বাকি ৫টি শয্যায় অন্যান্য রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে।