ইয়েমেনে সেনাবাহিনী এবং ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বাহিনীর মধ্য সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সোমবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে নিহত ও আহত হয়েছেন ৪৭৬ জন হুথি যোদ্ধা।
যে দশ ফ্রন্টে যুদ্ধ হয়েছে, সেগুলো পশ্চিম উপকূলের হারাধ, হাজ্জাহ প্রদেশের আল-তুয়াল, উত্তরাঞ্চলীয় সা’দা প্রদেশে কাতিফ, আল বাকা এবং আল্ব, উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় জেলা আল জাউফ, পূর্বাঞ্চলীয় জেলা মারিব, দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা লাহজ, দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা তাইজ এবং মধ্যাঞ্চলীয় আল বায়দা জেলায় অবস্থিত।
অভিযানে হুথি বাহিনীর কমান্ড সেন্টার, অস্ত্র ও রসদ ডিপো, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং শত শত সামরিক যাবনবাহন ধ্বংস করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন কর্নেল আল-নুজাইলি।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তারপর মাত্র এক বছরের মধ্যে ২০১৫ সালে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে। হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি সেনাবাহিনী।
বর্তমানে রাজধানী সানা, লোহিত সাগর উপকূল, বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ ইয়েমেনের গোটা উত্তরাঞ্চলসহ মোট ভূখণ্ডের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে; আর দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।
এর আগে রোববার সৌদি দৈনিক আরব নিউজকে কর্নেল আল-নুজাইলি বলেছিলেন, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার— তিন দিনে , অর্থাৎ ৭২ ঘণ্টায় হুথিদের লক্ষ্য করে মোট ৭৫৬টি সামরিক অভিযন পরিচালনা করেছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। সেসব অভিযানে নিহত এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ৩১৬ জন হুথি যোদ্ধা।