অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে ‘সিনেমা স্টাইলে’ তুলে নিয়ে গেল পুলিশ

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

দিল্লির যন্তর মন্তরে ভোরের আলো মাত্র ফুটেছে। ঠিক তখনই এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানের সাক্ষী হলো ভারতের রাজধানী। সেখানে অনশনরত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে একপ্রকার ‘সিনেমা স্টাইলে’ তুলে নিয়ে গেছে দিল্লি পুলিশ। পুরো অভিযানটি সম্পন্ন করতে সময় নেওয়া হয়েছে মাত্র দুই মিনিট। অভিযানের সময় চারপাশের মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে বসানো হয়েছিল ফোন জ্যামার। এমনকি সাধারণ মানুষের নজর এড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে সাদা কাপড়ের পর্দা।

গোপন অভিযানের ছক

শনিবার (১৮ জুলাই) ভোররাত ৩টার দিকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যকে যন্তর মন্তরে জড়ো করা হয়। তাদের বলা হয়েছিল, পার্লামেন্টের বাদল অধিবেশনের আগে এটি একটি সাধারণ মহড়া। পরে তাদের মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে আসল পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। ডিসিপি শচীন শর্মা পুলিশ সদস্যদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যন্তর মন্তর থেকে সোনম ওয়াংচুককে সরাতে হবে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে।

পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড় সংস্কার এবং প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে অনশন করছেন সোনম ওয়াংচুক। ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র ব্যানারে এই আন্দোলনের আয়োজন করা হয়েছিল।

কমিশনার বদল ও নিখুঁত পরিকল্পনা

এই অভিযানের ঠিক এক দিন আগেই এক নাটকীয় সিদ্ধান্তে দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলচাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার জায়গায় নতুন দায়িত্ব পান অনুরাগ কুমার। সূত্রের খবর, যন্তর মন্তরের এই আন্দোলন সামলাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই বিদায় নিতে হয়েছে বিদায়ী কমিশনারকে।

ঝড়ের বেগে অপারেশন

শনিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে যখন অভিজিৎ দিপকে মঞ্চ থেকে কিছুটা দূরে যান, ঠিক তখনই পুলিশ তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। মঞ্চের সামনে দ্রুত একটি সাদা কাপড়ের পর্দা টেনে দেওয়া হয়, যাতে বাইরে থেকে কেউ কিছু দেখতে না পারে।

মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে চার-পাঁচজন পুলিশ সদস্য ওয়াংচুককে পাঁজকোলা করে তুলে নিয়ে যান। যন্তর মন্তরের কাছে আগে থেকেই তৈরি রাখা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সফদরজং হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে পুলিশ অন্য আন্দোলনকারীদেরও সেখান থেকে সরিয়ে দেয় এবং দিপককে আটকে ফেলে।

এদিকে সোনম ওয়াংচুককে এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ভারতের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং শিবসেনাসহ (ইউবিটি) প্রধান বিরোধী দলগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ