গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে তিনি শেষ পর্যন্ত কত দূর যাবেন, এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দিতে রওনা হওয়ার পূর্বে সাংবাদিকদের এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শেষ পর্যন্ত কত দূর যাবেন । জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, আপনারা জানতে পারবেন । তিনি আরও বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমাদের বৈঠকের সূচি রয়েছে। আমার মনে হয় বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই মিটে যাবে।
সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে আরও প্রশ্ন করেছেন, তার হুমকির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে করা সেই চুক্তি ঝুঁকিতে পড়তে পারে কি না, যার আওতায় ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ট্রাম্প জবাবে বলেছেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইউরোপেরই বেশি প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেছেন, এমন একটি সমাধান বের হবে যাতে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্র, উভয়ই সন্তুষ্ট থাকে। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রিনল্যান্ডে তার পরিকল্পনার ব্যাপক বিরোধিতা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, আমি যখন তাদের সঙ্গে কথা বলব, তারা খুশি হবে। তিনি আরও দাবি করেছেন, আর্কটিক অঞ্চলে নতুন নৌপথ চালু হওয়ায় রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করতে পারে, তাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দ্বীপটি গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, বাস্তবে রাশিয়া ও চীন গ্রিনল্যান্ডে কোনো দাবি করেনি। ডেনমার্ক জানিয়েছে, চীনের সেখানে কোনও বড় বিনিয়োগ নেই এবং কোনও চীনা যুদ্ধজাহাজও গ্রিনল্যান্ডে যায়নি।
সম্প্রতি, ডেনমার্ক সতর্ক বলেছে, ট্রাম্প যদি গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি কার্যকর করলে ন্যাটো জোট ঝুঁকিতে পড়বে। ইউরোপীয় দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠায়, এর জাবাবে ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশের উপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দেন।