২৪ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় জাতিসংঘ দিবস। যুদ্ধ, সংঘাত, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও মানবিক সংকটের এই পৃথিবীতে দিনটি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান সম্ভব জাতিসংঘ দিবসের মূল বার্তা এটাই। দিবসটি কেবল একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের উপলক্ষ নয়; বরং মানবসভ্যতার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার নতুন করে স্মরণ করার দিন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর বিশ্বনেতারা উপলব্ধি করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে রক্ষা করতে হলে দেশগুলোর মধ্যে স্থায়ী সহযোগিতা ও কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত চলা এ যুদ্ধে কোটি কোটি মানুষ প্রাণ হারান। ধ্বংস হয়ে যায় অসংখ্য নগর, জনপদ ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো। বাস্তুচ্যুত হয় বিপুলসংখ্যক মানুষ। যুদ্ধের নির্মম অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য একটি কার্যকর বিশ্বসংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করে তোলে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ। এর আগে একই বছরের ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ৫০টি দেশ জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর করেছিল। পরে পোল্যান্ড সনদে স্বাক্ষর করায় প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫১। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতা, বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি এবং সম্মিলিত নিরাপত্তার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৪ অক্টোবরকে জাতিসংঘ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৪৮ সাল থেকে দিবসটি উদ্যাপন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭১ সালে সাধারণ পরিষদ সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে দিবসটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালনের সুপারিশ করে। তবে বিশ্বের সব দেশে একইভাবে ছুটি পালন করা হয় না। জাতিসংঘ দিবসের তাৎপর্য হলো, আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার জন্য প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার লক্ষ্য, কার্যক্রম ও অর্জন সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সচেতন করা।
জাতিসংঘের মূল লক্ষ্যগুলো নির্ধারিত হয়েছে এর সনদে। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা, দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠা করা এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলো নিজেদের সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে এই সংগঠনে অংশ নেয়। সংস্থাটির সনদে আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তি এবং অন্য রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি বা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নীতিও গুরুত্ব পেয়েছে।
জাতিসংঘের বর্তমান সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা ১৯৩। এর কার্যক্রম পরিচালনায় ছয়টি প্রধান অঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলো হলো সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, অছি পরিষদ, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং সচিবালয়। সাধারণ পরিষদে সব সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। প্রতিটি রাষ্ট্রের একটি করে ভোট থাকায় এখানে আন্তর্জাতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা, নীতি নির্ধারণ এবং বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ করার সুযোগ তৈরি হয়। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যসংখ্যা ১৫। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র হলো চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। এসব রাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব ফেলে। ফলে কোনো কোনো সংকটে জাতিসংঘ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গিয়ে রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়ে। বিশেষ করে বড় শক্তিগুলোর স্বার্থের সংঘাত, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং ভেটো প্রয়োগের কারণে বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ বাস্তবতা জাতিসংঘের সংস্কার, প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
জাতিসংঘের কার্যক্রম শুধু যুদ্ধ ও সংঘাত নিরসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা, শরণার্থীদের সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ ও বিশেষায়িত সংস্থা এসব ক্ষেত্রে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কাজ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধে, ইউনিসেফ শিশুদের অধিকার ও কল্যাণে, ইউনেসকো শিক্ষা-সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানচর্চায় এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে অবদান রাখে।
বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তিরক্ষী মোতায়েন জাতিসংঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। শান্তিরক্ষীরা যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে কাজ করেন। তবে শান্তিরক্ষী বাহিনী সব ক্ষেত্রে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে না। তাদের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট মিশনের ম্যান্ডেট, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা এবং সংঘাতের পক্ষগুলোর আচরণের ওপর নির্ভরশীল। অনেক সময় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শান্তিরক্ষীদের জীবনও দিতে হয়। তারপরও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্কও ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় কূটনীতি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিয়ে আসছে।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক সামরিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীতে কর্মকর্তা পাঠানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্য এবং পুলিশ সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের অনেক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন কিংবা আহত হয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের জন্য গৌরবের পাশাপাশি বিশ্বশান্তির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারেরও প্রতীক।
বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তন। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও খরার কারণে বিশ্বের বহু দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য এ সংকট বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। জাতিসংঘের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জলবায়ুবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে এসব বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়। তবে প্রতিশ্রুত অর্থায়ন, নিঃসরণ হ্রাস এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা জাতিসংঘের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। ২০১৫ সালে গৃহীত এই কর্মসূচিতে ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য দূরীকরণ, ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গঠন, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, বৈষম্য কমানো, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো ১৭টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার ও পরিবেশগত ভারসাম্য নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়নের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়।
তবে প্রতিষ্ঠার আট দশক পেরিয়ে আসা জাতিসংঘকে ঘিরে প্রত্যাশার পাশাপাশি হতাশাও রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বাস্তুচ্যুতি ও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। গাজা, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর, প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক করার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
জাতিসংঘ কোনো বিশ্বসরকার নয়। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সম্মতি, সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর এর কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে। আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা থাকলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো নিজেদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আন্তর্জাতিক নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে বিশ্বসংস্থাটির পক্ষে সব সংকটের কার্যকর সমাধান দেওয়া কঠিন। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ন্যায্য অধিকার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলোচনা, সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের উদ্দেশ্য জাতিসংঘের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। দিবসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যুদ্ধের ক্ষত শুধু একটি দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, অভিবাসন ও মানবিক সম্পর্কের ওপর।
আজকের বিশ্বে কোনো দেশই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নভাবে তার সব সমস্যা সমাধান করতে পারে না। মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাসবাদ, দারিদ্র্য, শরণার্থী সংকট ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাই জাতিসংঘের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বরং এর সীমাবদ্ধতা দূর করে সংস্থাটিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিতে হবে।
জাতিসংঘ দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য কেবল আনুষ্ঠানিকতা কিংবা বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর তাৎপর্য নিহিত রয়েছে যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি, ঘৃণার পরিবর্তে সহনশীলতা, বৈষম্যের পরিবর্তে সমতা এবং প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার মধ্যে। বিশ্বের প্রতিটি মানুষের নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন লক্ষ্য। জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে পারলেই ২৪ অক্টোবরের এই দিবস সার্থক হয়ে উঠবে। শান্তি ও মানবতার স্বার্থে রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত সদিচ্ছাই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে।